কুরবানি ঈদকে ঘিরে রাজ্যে পশু জবাই সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ উঠছে, নতুন নিয়ম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পশুপালক, ব্যবসায়ী ও কুরবানির পশু নিয়ে বাজারে আসা মানুষদের একাংশ নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে দাবি বিরোধীদের।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ধর্মীয় উৎসব ও মানুষের জীবিকার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রশাসনের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। তাঁর বক্তব্য, দেশে নানা ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ বসবাস করেন। ফলে খাদ্যাভ্যাস বা ধর্মীয় প্রথার ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য রয়েছে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই প্রশাসনের পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।
সেলিম জানান, হঠাৎ করে কঠোর বিধিনিষেধ চালু হলে বহু পশুপালক ও ছোট ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়বেন। কারণ অনেক মানুষ গবাদি পশু পালন ও বিক্রির উপর নির্ভর করেই সংসার চালান। তিনি দাবি করেন, পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে নির্দেশিকা কার্যকর করায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সিপিএমের অভিযোগ, রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় কুরবানির পশু নিয়ে যাওয়া ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। কিছু জায়গায় ভয় দেখানো বা বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি দলের। এই পরিস্থিতিতে আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাম শিবির। সেলিম জানান, দলের আইনজীবীরা বিষয়টি আদালতে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্লকে আক্রান্ত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি। থানায় থানায় স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিপিএম নেতা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গোরক্ষার নামে কিছু রাজনৈতিক কর্মী সাধারণ মানুষকে অযথা চাপে ফেলছেন। এর ফলে সামাজিক অশান্তির পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, কুরবানি মূলত ত্যাগের প্রতীক, আর সেই ধর্মীয় রীতিকে ঘিরে অযথা উত্তেজনা তৈরি করা উচিত নয়।
অন্যদিকে এই ইস্যুতে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীও সরব হয়েছেন। তিনি রাজ্যের প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে দাবি করেছেন, বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁর মতে, প্রশাসনের উচিত নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করে দেওয়া, যাতে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় প্রথা পালন করতে পারেন। এতে অশান্তির আশঙ্কাও কমবে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকবে।


