
আবারো রাজ্যে মহিলা নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে। রবিবার গভীর রাতে পানাগর দুর্ঘটনা কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায় নামক এক মহিলা গাড়ি চালককে, মদ্যপ অবস্থায় কিছু যুবক ধাওয়া করে। অভিযোগ, আশ্রাব্য ভাষায় ক্রমাগত মহিলা গাড়ি চালককে উত্ত্যক্ত করতে থাকে ওই যুবকরা। তাদের হাত থেকে বাঁচতে, ভুল পথে গাড়ি নিয়ে গিয়ে ভয়াবহ এক্সিডেন্টে মৃত্যু হয় ওই যুবতীর।
পানাগর রোডে, দুষ্কৃতি তাণ্ডবের জেরে, ভয়ে সুতন্দ্রা গাড়িটি রাইস মিল রোডে দ্রুত গতিতে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর, দুষ্কৃতির গাড়ি সুতন্দ্রার গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারলে গাড়িটি প্রথমে একটি দোকানে, তারপর রাস্তার ধারের বাথরুমে, এবং সবশেষে রাস্তায় রাখা একটি যন্ত্রাংশে সজোরে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় সুতন্দ্রার।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্যে আবারো নারী নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে। ঘটনার ৪৮ ঘন্টা পরেও দুষ্কৃতিদের নাগাল পায়নি পুলিশ। পুলিশ ২৭ বছর বয়সী যুবতী গাড়ি চালককে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা না মানলেও, সংবাদ মাধ্যমের কাছে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে বসে মৃতার মা তনুশ্রী চট্টোপাধ্যায়। তার দাবি, গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে দুষ্কৃতীরা যৌন হেনস্তার চেষ্টা করে মেয়েকে। এছাড়াও তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন। কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর উপর আস্থাশীল নন তিনি। মৃতার মা রাজ্যে নারী সুরক্ষার দাবিতে অনড়।
ইতিমধ্যে বিরোধীরা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চরিয়েছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক ও পলিট ব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম এবং সিপিএমের নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জী ইতিমধ্যে মৃতার বাড়িতে উপস্থিত হয়েছেন। সেখানে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ মৃতার মা তনুশ্রী চট্টোপাধ্যায় এবং পরিবারের বাকি সদস্যের সঙ্গে কথোপকথন করেন।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মীনাক্ষী মুখার্জী জানান, “কিছুদিন আগে বাবা চলে গেলেন। এই পরিস্থিতিতে সন্তানের উপর পুরো পরিবারের দায়িত্বভার ছিল। এমন পরিস্থিতিতে, পরিবারের একমাত্র সন্তানের মৃত্যু ঘটলে, সেই মা, ঠাকুমাকে কি সান্তনা দিতে হয়, তা আমাদের জানা নেই।” তিনি আরো জানান, “মায়ের মানসিক দৃঢ়তা দেখে আজ আমরা সকলেই শিখলাম।”
তনুশ্রী চট্টোপাধ্যায়, মেয়ের মৃতদেহকে সামনে রেখে পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়ায়। এই মৃত্যুর সঠিক বিচারের দাবিতে অনড় মা। মায়ের এই মানসিক দৃঢ়তাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন মীনাক্ষী মুখার্জী।
“গোটা রাস্তার অথরিটি, পুলিশ প্রশাসন দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে বলে দাবি করছেন দলনেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জী। রাজ্যের সকল শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে, পরিবারের অসময়ে পাশে থেকে দায়িত্বের পরিচয় দিতে হবে” এমনটাই দাবি করেন মীনাক্ষী মুখার্জী।
অপরদিকে মোঃ সেলিম বলেন, “অভিযোগ লিপিবদ্ধ করার আগেই পুলিশ বয়ান দিয়ে দেয়। বয়ান দিয়ে দেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও। এরপর গোটা কেসটাকে সুপরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়।”