অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ার পর ধীরে ধীরে শক্তি হারাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া বুধবার সকাল পর্যন্ত চলে। এর জেরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকায় প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। বহু জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকা থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকীনাডার কাছে ইয়ানাম উপকূল দিয়ে স্থলভাগে ঢুকতে শুরু করে অর্ণব। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছয়। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র স্থলভাগে প্রবেশ করে। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলে এই প্রক্রিয়া।
স্থলভাগে ঢোকার পর থেকেই ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি কমতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে সেটি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের দাপট আরও কমবে। তবে তার প্রভাব ইতিমধ্যেই উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় পড়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের আনাকাপল্লি, বিশাখাপত্তনম, কাকীনাডা এবং কোনাসীমা জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। প্রবল হাওয়ায় বহু গাছ উপড়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। ঝড়ের দাপটে রাস্তায় থাকা বাইকও উল্টে যাওয়ার খবর মিলেছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে একাধিক উড়ান বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল-সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ট্রেন চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। অন্য দিকে, ওড়িশার গোপালপুর, পুরী-সহ উপকূলবর্তী এলাকাতেও ঝড়বৃষ্টির প্রভাব দেখা গিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই রাজ্যেই আগে থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে না পড়লেও রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়। বুধবার সকালে আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে দিঘা, মন্দারমণি ও শঙ্করপুরে সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস দেখা যায়। কাঁথি ও রামনগর-সহ কয়েকটি এলাকায় ভোর থেকে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার দক্ষিণবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পরিমাণ ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গের কোনও জেলাতেই বুধবার ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। ফলে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব দুর্বল হলেও উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


