রাশিয়ার দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের খাসাভইয়ট শহরে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয় একেবারেই ভিন্নভাবে। যখন বিশ্বের নানা প্রান্তে বর্ষবরণের রাতে আতশবাজি, গান আর আলোর ঝলকানিতে আকাশ ভরে ওঠে, তখন এই শহরে শোনা যায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের শান্ত সুর। বছরের প্রথম মুহূর্তে শহরের বিভিন্ন মসজিদের মাইক থেকে ভেসে আসা এই ধ্বনি পুরো পরিবেশকে করে তোলে গভীরভাবে আধ্যাত্মিক।দাগেস্তান উত্তর ককেশাস অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতন্ত্র, যেখানে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশেরও বেশি। এখানকার মানুষ নতুন বছরকে শুধু ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন হিসেবে দেখেন না, বরং ধর্মীয় ভাবনা ও আত্মশুদ্ধির একটি সময় হিসেবেই গ্রহণ করেন। সেই কারণেই পশ্চিমা ধাঁচের উৎসবের বদলে কুরআনের বাণী প্রচারের মধ্য দিয়েই তারা বছর শুরু করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতারা। তাদের বক্তব্য, তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের ধর্মীয় শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কুরআনের তেলাওয়াতের মাধ্যমে ইসলামি আদর্শ ও নৈতিকতার বার্তা নতুন প্রজন্মের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তাদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষারও একটি পথ।শহরের সাধারণ বাসিন্দারাও এই বর্ষবরণকে ইতিবাচক চোখেই দেখছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, উচ্চ শব্দ আর উচ্ছ্বাসের পরিবর্তে পবিত্র কুরআনের সুমধুর ধ্বনিতে নতুন বছর শুরু করলে মনে এক ধরনের শান্তি ও আত্মিক শক্তি অনুভূত হয়। তাদের কাছে এটি আত্মসমালোচনা ও নতুন করে ভালো পথে চলার অনুপ্রেরণা জোগায়।উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দাগেস্তান অঞ্চলে ইসলামের ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। রাশিয়ার দেরবেস্তে অবস্থিত জুমা মসজিদ, যা ৭১৩ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত, সেই ইতিহাসেরই সাক্ষ্য বহন করে। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই স্থাপনা রাশিয়া ও ককেশাস অঞ্চলের মুসলিম ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। খাসাভইয়টের এই বিশেষ বর্ষবরণ আজ বিশ্বজুড়ে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
Popular Categories


