
মৈনপুরী জেলার হরিপুর গ্রামের একটি বেসরকারি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে এক দলিত ছাত্রকে জল বোতল স্পর্শ করার কারণে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মঙ্গল সিং শাক্যা উচ্চবর্ণীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। ঘটনাটি শনিবার ঘটেছে বলে জানা গেছে।
১৫ বছর বয়সী ওই ছাত্র (ক্লাস ১১) জানায়, “আমি জল খাওয়ার জন্য টেবিলে রাখা বোতলটি তুলে নিই। সেটা স্পর্শ করামাত্র শিক্ষক রেগে গিয়ে বলেন, ‘তুমি কীভাবে বোতল ছুঁতে পার? এটা অপবিত্র হয়ে গেছে। এখন কে এটা থেকে জল খাবে?'” এরপর স্কুল ছুটির পর তাকে একটি ঘরে বন্দী করে মারধর করা হয়। ছাত্রটি অভিযোগ করে, প্রতিবাদ করায় শিক্ষক তাকে আবারও আঘাত করেন।
পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেও প্রথমে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করে ছাত্রটি। পরবর্তীতে ১লা এপ্রিল মৈনপুরীর এসএসপি গণেশ প্রসাদ সাহার সাথে দেখা করে সে। এসএসপি তদন্তের আশ্বাস দিলে কিশনি থানায় একটি এফআইআর নথিভুক্ত হয়। এতে ভারতীয় দণ্ডবিধির (বিএনএস) ধারা ১১৭(২) (গুরুতর জখম), ১২৭(২) (অবৈধ আটক), ৩৫১(২) (অপরাধমূলক হুমকি), ৩৫২ (শান্তিভঙ্গের উসকানি) এবং এসসি/এসটি আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। ডিএসপি ভোগাওঁ সত্য প্রকাশ শর্মা তদন্তে নিয়োজিত আছেন।
এসএসপি সাহা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “অভিযোগ উপেক্ষার কথা সঠিক নয়। কিশনি থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং এএসপি (সিটি) তদন্ত তত্ত্বাবধান করছেন।”

স্কুল ব্যবস্থাপক রাকেশ চৌহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ছাত্রটি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে পাস আউট হয়েছে। চরিত্র প্রত্যয়নপত্রের জন্য সে স্কুলে এসেছিল। ক্লার্ক তাকে মঙ্গলবার আসতে বলে, কারণ অধ্যক্ষ ও আমি উপস্থিত ছিলাম না। এরপর সে ক্লার্কের সাথে অশালীন আচরণ করে এবং একটি রেজিস্টার ছিঁড়ে ফেলে। অন্যান্য স্টাফ হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।” তিনি শিক্ষকের কাছ থেকে শারীরিক বলপ্রয়োগের কথা আংশিক স্বীকার করলেও জল বোতল স্পর্শের ঘটনাকে ‘অহেতুক’ বলে উড়িয়ে দেন।
বর্তমানে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে। সামাজিক বৈষম্য ও দলিতদের বিরুদ্ধে হিংসার এই ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তরফেও প্রতিক্রিয়ার প্রত্যাশা আশা করা হচ্ছে।