দার্জিলিং জেলায় ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রায় ৩০ জন মুসলিম বাসিন্দাকে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত শুনানিতে ডাকা হওয়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, সুনীল ছেত্রী নামক এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতীয় নাগরিক নন এবং ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া উচিত। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুনানির আয়োজন করা হয়। রবিবার ছিল বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচির বর্ধিত সময়সীমার শেষ দিন। আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে হাজিরা দিতে এসে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে তারা দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা এবং পূর্ববর্তী সব নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। চকবাজার এলাকার এক ব্যক্তি জানান, তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সবই এই শহরে। তার বাবা-দাদারাও এখানেই বসবাস করতেন। ২০০২ সাল থেকে তার নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে। হঠাৎ করে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়ায় তিনি বিস্মিত।
ওই বাসিন্দার অভিযোগ, নির্দিষ্টভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের নাম চিহ্নিত করেই আপত্তি জানানো হয়েছে। তার দাবি, একই পরিবারের মধ্যে কেবল তার ও তার ভাইয়ের নামেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে, অন্যদের নয়। এতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে রকভিল রোড এলাকার এক মহিলা জানান, নোটিশে তাকে ভারতীয় নাগরিক নন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেন। দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করেও নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে হওয়াকে তিনি অত্যন্ত কষ্টদায়ক বলে উল্লেখ করেন।
শুনানিতে উপস্থিত আরও অনেকেই একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাদের বক্তব্য, বছরের পর বছর ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও এবারই প্রথম এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো। বিষয়টি নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।


