তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র আদালতে বড়সড় স্বস্তি পেলেন। সংসদে ঘুষ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সিবিআই চার্জশিট জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল লোকপাল। পাল্টা সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মহুয়া দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেন। শুক্রবার আদালত সেই নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছেন।
দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি অনিল ক্ষেত্রপাল এবং হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্কর জানান, লোকপালের নির্দেশে যথাযথ বিচার হয়নি। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, লোকপাল বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে এক মাসের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এই মামলা শুরু হয় বিজেপির অভিযোগের কারণে। তারা জানিয়েছিল, শিল্পপতি হীরানন্দানির কাছ থেকে টাকা নিয়ে মহুয়া সংসদে প্রশ্ন করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বিজেপি সাংসদ মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজ করার জন্য লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দেন। ঘটনার পর লোকপাল মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন। সিবিআই তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেয়। এরপর লোকপাল সিবিআইকে চার্জশিট দাখিলের অনুমতি দেন এবং চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে তা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মহুয়া এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি দাবি করেন, ১২ নভেম্বরের নির্দেশে তার বক্তব্য যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। পাশাপাশি ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন। মামলায় দুই পক্ষের আইনজীবীর মধ্যে সাংসদ হিসেবে মহুয়ার অধিকার নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়। সিবিআই দাবি করে, লোকপালের দেওয়া অনুমতি নিয়ে আপত্তি অমূলক। আদালতের সিদ্ধান্তে মহুয়ার অভিযোগের গুরুত্ব দেওয়ার কারণে রাজনৈতিক মহলে এবং আদালতের বাইরে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।


