উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের মিলাদ-উন-নবীর শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা পোস্টার লাগিয়েছিলেন। কিন্তু এই কারণেই দুই রাজ্যের পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর দায়ের করে। অভিযোগ উঠে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে প্রশাসন মুসলিমদের বিরুদ্ধে অকারণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ধর্মীয় উৎসবের শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণকেও অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিরপরাধ মুসলিমদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু সোমবার সেই মামলা খারিজ করে দেয় আদালত। প্রধান বিচারপতি ডি. কে. উপাধ্যায় ও বিচারপতি তুষার রাও গেদেলার বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আবেদনকারী সুজাত আলীর এই বিষয়ে কোনও জনস্বার্থ নেই। আদালতের মন্তব্য, দিল্লি হাইকোর্ট অন্য রাজ্যে নথিভুক্ত এফআইআর নিয়ে নির্দেশ দিতে পারে না।
মামলার আবেদনকারীরা দাবি করেছিলেন, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড পুলিশ সাম্প্রদায়িক পক্ষপাত দেখিয়ে মিথ্যা মামলা করেছে। শান্তিপূর্ণ মত প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তারা চাইলে নিজেদের মতো করে উপযুক্ত আইনি সাহায্যের জন্য আবেদন করতে পারেন।
প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বরে ঈদ-ই-মিলাদ-উন-নবীর শোভাযাত্রায় মুসলিমরা নবী মুহাম্মদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একাধিক জায়গায় পোস্টার লাগান। অভিযোগ, এরপরই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মীরা হামলা চালায়, স্লোগান তোলে ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। তবুও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টে মুসলিমদেরই প্রচুর সংখ্যায় গ্রেফতার করে।
দুই রাজ্যে প্রায় ২২৫ জন মুসলিমের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়। অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস (এপিসিআর)-এর রিপোর্টে দাবি, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ২১টির বেশি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং প্রথম দফায় প্রায় ১৩০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে এই সংখ্যা ৭ অক্টোবরের মধ্যে চার হাজার ছুঁয়ে যায় বলে জানা যায়।


