উত্তর-পশ্চিম দিল্লির রিথালা মেট্রো স্টেশন-এর কাছে একটি বাঙালি মুসলিম পরিযায়ী বসতিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০০টির বেশি ঝুপড়ি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় প্রাণ হারায় এক ১৭ বছরের মুসলিম কিশোরী। আগুনের কয়েক ঘণ্টা পরেও এলাকা জুড়ে ছাই, পোড়া টিনের চাল, বাসনপত্র ও পোশাক ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
মঙ্গলবার দুপুরে অনেক বাসিন্দাকে নিজেদের ভাঙা ঘরের ধ্বংসস্তূপে খুঁজতে দেখা যায়। কেউ পোড়া লোহার টুকরো, কেউ বা বাঁকানো টিনের পাত সংগ্রহ করছেন, এই আশায় যদি সেগুলো বিক্রি করে কয়েকশো টাকা পাওয়া যায়। অনেকের মতে, অন্তত কয়েকদিনের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্যই এই চেষ্টা।
স্থানীয় বাসিন্দা নূরবানো, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে ওই বস্তিতে থাকেন, আগুনে নিজের ঘর হারিয়েছেন। তিনি ও তার স্বামী জীবিকা নির্বাহ করেন আবর্জনা কুড়িয়ে। ধ্বংসস্তূপের পাশে বসে তিনি পোড়া ধাতুর টুকরো আলাদা করছিলেন। তার কথায়, কীভাবে আগুন লাগল তা এখনও জানা যায়নি।
আগুন লাগে ভোর প্রায় ৪টা ১৫ মিনিট নাগাদ, যখন অনেকেই সেহরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই কারণেই দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ পালিয়ে বাঁচতে পারেন। দমকল সূত্রে জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের দাবি, আগুন প্রথমে বসতির প্রবেশপথের কাছে লাগে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে পেছনের একটি নিচু দেওয়াল টপকে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান।
এদিকে বাসিন্দাদের অভিযোগ, সকাল থেকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সরকারি কোনও প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে আসেননি। আগুনের কারণ এখনও তদন্তাধীন। তবে বহু পরিবার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিজেদের ঘরের ধ্বংসস্তূপ ঘেঁটে যা পাওয়া যায়, সেটাই জড়ো করছেন তারা।


