দিল্লির বহু পুরনো ওয়াকফ সম্পত্তি ঘিরে দীর্ঘদিনের জটিলতা ফের সামনে এলো। দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ডিডিএ) সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, শহরের ১২৩টি ওয়াকফ সম্পত্তিকে অধিগ্রহণের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট–এর নির্দেশ মেনে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, উক্ত সম্পত্তিগুলিকে কেন্দ্র করে বহু বছর ধরেই প্রশাসন ও দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড–এর মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। ব্রিটিশ আমল থেকে জমির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত, যা সময়ের সঙ্গে আরও জটিল হয়েছে। ওয়াকফ বোর্ডের দাবি, ধর্মীয় ও সমাজকল্যাণ মূলক কাজে ব্যবহৃত এসব জায়গা তাদের তত্ত্বাবধানেই থাকা উচিত।
মঙ্গলবার গৃহ ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনে গঠিত দুই সদস্যের কমিটির দফতর থেকে প্রকাশিত নোটিশে জানানো হয়, আগে জারি করা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সম্পত্তিগুলিকে অধিগ্রহণের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল এবং পরিচালনার দায়িত্ব বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট মুতাওয়াল্লিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনার নির্দেশ আসে।
এর পর কেন্দ্র সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এস.পি. গর্গ ও প্রাক্তন এসডিএম রাধা চরণকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সব পক্ষের বক্তব্য শুনে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার। কমিটি লিখিত আপত্তি ও আবেদন গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজন হলে সরাসরি শুনানির আয়োজনও করবে।
ডিডিএ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলির তালিকা ও নথি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ৩০ দিনের মধ্যে মতামত জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব জায়গায় ওয়াকফ জমি ও সরকারি নজুল জমি পাশাপাশি রয়েছে, সেখানে সীমানা নির্ধারণের কাজও করা হবে।
তালিকাভুক্ত সম্পত্তিগুলির মধ্যে দরিয়াগঞ্জ, করোল বাগ, নিজামুদ্দিন, সদর বাজার ও কনট প্লেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত মসজিদ, দরগাহ, কবরস্থান ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা রয়েছে। ফলে এই সিদ্ধান্ত দিল্লির বহু মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে।


