ছত্তিশগড়ে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে হিন্দু ধর্মপ্রচারক ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর সরকারি বিমানে যাতায়াত নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সম্প্রতি রায়পুরে একটি ধর্মীয় কর্মসূচির আগে তাকে রাজ্য সরকারের উড়োজাহাজে করে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কোন নিয়ম বা প্রোটোকল মেনে একজন ধর্মীয় ব্যক্তিকে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলো।
বিরোধী কংগ্রেস এই ঘটনায় সরব হয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে। তাদের দাবি, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী কোনও সাংবিধানিক পদে নেই, তা সত্ত্বেও সে সরকারি বিমান ব্যবহার করছে।কংগ্রেসের মতে, এটি সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং রাজ্য কোষাগারের অর্থের অপচয়। দলের ছত্তিশগড় শাখার মুখপাত্র সুশীল আনন্দ শুক্ল বলেন, কোন ক্ষমতাবলে শাস্ত্রী এই সুবিধা পেলেন, তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।
এই বিতর্ক আরও উসকে দেয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, সরকারি বিমানে থেকে নামার পর এক পুলিশ আধিকারিক তাকে স্যালুট করেন এবং পরে জুতো ও টুপি খুলে তার পায়ে হাত দেন। ভিডিওতে শাস্ত্রীর আগে বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখা যায় রাজ্যের মন্ত্রী গুরু খুশবন্ত সাহেবকে। এই দৃশ্য ঘিরেও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
কংগ্রেস আরও দাবি করে, মন্ত্রী সাহেবের সরকারি সফরের সূচিতে মধ্যপ্রদেশের সাতনায় আধঘণ্টা থামার কথা ছিল। সাতনা শাস্ত্রীর বাগেশ্বর ধাম থেকে খুব বেশি দূরে নয়। তাদের প্রশ্ন, আধঘণ্টায় সেখানে কী সরকারি কাজ সম্পন্ন হলো। যদিও মন্ত্রী গুরু খুশবন্ত সাহেব এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রোটোকল এড়ানোর জন্য তিনি ওই পথে যাননি।
এদিকে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বহু মানুষের বিশ্বাসের কেন্দ্র। তিনি যখনই ছত্তিশগড়ে আসতে চাইবেন, সরকার তাকে সম্মানের সঙ্গে স্বাগত জানাবে। ভিলাইয়ে এক ধর্মীয় সভায় তিনি বলেন, শাস্ত্রীকে প্রয়োজন হলে কাঁধে করেও আনা হবে।


