ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ এলেই সমুদ্রপ্রেমী বাঙালিদের প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠে দিঘা। বড়দিনের ছুটি, বর্ষশেষের উদ্যাপন এবং ‘দিঘা বিচ ফেস্টিভ্যাল’, সব মিলিয়ে এই বছরও বছরের শেষ কয়েক দিনে সৈকত শহরে উপচে পড়বে পর্যটকের ঢল। এই বিপুল ভিড়ের ফলে যাতে যান চলাচল ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যে আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ ও প্রশাসন।
সোমবার তমলুকের পুলিশ লাইনে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, উৎসবের দিনগুলিতে দিঘায় অবাধ যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। বিশেষ করে অটো ও টোটোর চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। পর্যটকদের সুবিধা ও শহরের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন এবং ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর বিচ ফেস্টিভ্যাল ও বর্ষবরণ উপলক্ষে শহরের প্রবেশ পথেই নিয়ন্ত্রণ চালু করা হবে। দিঘা গেট দিয়ে নয়, পর্যটকবাহী গাড়িগুলিকে বাইপাস রাস্তা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। ছোট গাড়ি রাখার জন্য শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মোট সাতটি নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বড় বাস ও পর্যটকবাহী ভ্যানের জন্য হেলিপ্যাড সংলগ্ন মাঠে আলাদা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রশাসনের অনুমান, সমুদ্র ভ্রমণের পাশাপাশি মন্দির দর্শনে বিপুল মানুষ ভিড় করবেন। তাই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় যাতে যানজট না তৈরি হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, উৎসবের দিনগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। বাড়ানো হবে পুলিশি টহলও। মূল লক্ষ্য, পর্যটকেরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে পারেন এবং দিঘার রাস্তায় অযথা ভোগান্তি না হয়।


