নির্বাচনের আগে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট লুঠের পর এবার আমজনতাকে হুমকি দিতে শুরু করল বিজেপি। ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার নাম করে এবার মা-বোনেদের অপমান করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। খড়গপুরের এক সভা থেকে দিলীপ ঘোষ হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “এই টাকা কাউকে ফূর্তি করার জন্য, পান খাওয়ার বা বিউটি পার্লারে যাওয়ার জন্য দেওয়া হবে না।” মন্ত্রীর এই চরম নারীবিদ্বেষী ও অহংকারী মন্তব্যে রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের পর কীভাবে বিজেপির আসল রূপ ও দম্ভ প্রকাশ পাচ্ছে, এই বক্তব্য তারই প্রমাণ।
এখানেই শেষ নয়, তৃণমূলের আমলে চালু থাকা জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে কুৎসিত আক্রমণ শানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, ডাক্তারের বউ, মাস্টারের বউরা কেন এই টাকা পাবেন? অসৎ উপায়ে যাঁরা এতদিন টাকা নিয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে সুদ সমেত সমস্ত টাকা ফেরত নেওয়া হবে এবং পুরুষদের কোমরে দড়ি দিয়ে জেলে ভরা হবে বলেও হুমকি দেন তিনি। টাকা দেওয়ার নাম করে আমজনতার হাতে ১৩ পাতার যে জটিল ফর্ম ধরানো হয়েছে, তা নিয়ে মন্ত্রীর সাফাই, উপভোক্তার সম্পত্তি ও ব্যাঙ্কের টাকা খতিয়ে দেখেই তবেই অনুদান দেওয়া হবে। আসলে স্ক্রিনিংয়ের নামে বাংলার লক্ষ লক্ষ গরিব মহিলাকে এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ারই নীল নকশা তৈরি করেছে বিজেপি সরকার।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সুর মিলিয়ে বিভ্রান্তি কাটানোর নামে সরকারি কর্মচারীদের বাড়ি বাড়ি পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, আগামী বুধবার থেকে প্রথম পর্যায়ের টাকা দেওয়া হবে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, জনগণের সরকার দাবি করলেও বিজেপি আসলে শর্তের বেড়াজাল তৈরি করে মা-বোনেদের প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত করার নোংরা খেলায় মেতেছে। নির্বাচনের আগে বড় বড় কথা বলে এখন টাকা দেওয়ার বেলায় আমজনতাকে চোর অপবাদ ও জেলের ভয় দেখানো বিজেপির চিরকালীন প্রতারণার রাজনীতিকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।


