কলেজে বোরখা পরে আসা যাবে না—এমন মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত থানায় গিয়ে ক্ষমা চাইতে হল এক বিজেপি সমর্থককে। ঘটনাটি হাওড়ার ডোমজুড়ের আজাদ হিন্দ কলেজ-কে কেন্দ্র করে ঘটে, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।
অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলেজের সামনে কয়েকজনের জমায়েতের মধ্যে এক যুবক প্রকাশ্যে বলেন, “কলেজে কোনও বোরখা পরে আসা যাবে না। এটা কলেজ, মাদ্রাসা নয়।” ঘটনাটির একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। যদিও ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি এনবিটিভি।
ঘটনাকে ঘিরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পড়ুয়া ও তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত সক্রিয় হয় কলেজ প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ।
কলেজের অধ্যাপক সুপ্রিয় চক্রবর্তী জানান, ভিডিওটি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে এ ধরনের মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না। কলেজ কর্তৃপক্ষ পড়ুয়া ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেছে যে শিক্ষাঙ্গনে সকলের জন্য সমান পরিবেশ বজায় রাখা হবে।
এরপর অভিযুক্ত যুবক ডোমজুড় থানায় গিয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান। তাঁর দাবি, “উত্তেজনার বশে কথাগুলো বলে ফেলেছিলাম। আমি বিজেপির সক্রিয় কর্মী নই, একজন সমর্থক মাত্র। এভাবে বলা উচিত হয়নি।”
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। সংগঠনের হাওড়া সদরের যুগ্ম সম্পাদক রাজ সরকার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব ধর্মের পড়ুয়াদের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত এবং কোনও ধর্মীয় পোশাক নিয়ে ‘ফতোয়া’ জারি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, যাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনও গুজব বা বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।


