মুর্শিদাবাদের ডোমকল আজ তৃণমূল সরকারের পরিবারতন্ত্রের জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এখানকার বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম শুধু আইনসভার প্রতিনিধি নন, একই সঙ্গে পৌর প্রশাসক এবং ডোমকল এসডি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানও। কিন্তু এখানেই শেষ নয়—তাঁর নিকট আত্মীয়স্বজনদের হাতেও প্রশাসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব জমা পড়েছে। বড় ভাই জাহাঙ্গীর ইসলাম পৌরসভার ওয়ার্ড সভাপতি, ভাইপো মাহবুব হাসান পূর্ত দপ্তর এবং পঞ্চায়েত সমিতির পদে, মাসতুতো ভাই সাউদ হোসেন অঞ্চল সভাপতির দায়িত্বে, শ্যালিকা শাহানা বিবি পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী এবং ছোট ভাই জাকির হোসেন আকস্মিকভাবে বহরমপুর মেডিকেলে চাকরি পেয়েছেন।
এই ঘনিষ্ঠ পরিবারতন্ত্রের ফলে ডোমকলে প্রশাসন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠছে, সাধারণ মানুষ ন্যূনতম পরিষেবাও পাচ্ছেন না, বর প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক আধিপত্য ও হয়রানির মুখে পড়ছেন। ভোটে জনগণের সেবার প্রতিশ্রুতি দিলেও জাফিকুল ইসলামের কার্যকলাপে স্পষ্ট হচ্ছে, তিনি বরং নিজের পরিবারকে শক্তিশালী করাতেই বেশি মনোযোগী। ফলে প্রশ্ন উঠছে—গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কেন এক পরিবারের হাতে এত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হবে? ডোমকলবাসীর ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে, আর এই ক্ষোভ যদি একদিন বিস্ফোরিত হয়, তবে তৃণমূলের এই পারিবারিক দাপট ভেঙে পড়তে সময় লাগবে না।


