দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের , “রাতের বেলা মেয়েদের বাইরে না বেরোনোই ভালো”, এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বিরোধী শিবিরে। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের একটি গনধর্ষণের ঘটনা টেনে এনে তিনি বলেন “অনেক ঘটনা ঘটছে। রোজ ঘটছে। সেখানে মাথাব্যথা নেই। ধর্ষিতাকে আদালতে পৌঁছনোর আগে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়। সাংবাদিকদের ধরে, নগ্ন করে জেলে পুরে রাখে। এমন অনেক ঘটনা ঘটে। আমরা কোনও ঘটনাকেই সমর্থন করি না। জিরো টলারেন্ট নীতি মেনে চলি বাংলায়। বিভিন্ন রাজ্যের ছেলেমেয়ে এখানে পড়তে আসেন। তাদের আমি অনুরোধ করব, রাত্রি বেলা না বেরোতে। পুলিশ তো জানতে পারে না, কে কখন রাত্রিবেলা বেরিয়ে যাচ্ছে! বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজেরও একটা দায়িত্ব আছে, পড়ুয়াদের দেখভাল করা। পুলিশ তো আর বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বসে থাকবে না! কেউ যদি রাত ১২.৩০টায় বেরিয়ে কোথাও যায়…ঘটনাটা নিন্দনীয়, ঘটনাটিকে সমর্থন করছি না। যে যেখানে যেতে পারে, তার অধিকার। কিন্তু হস্টেলে থাকে যারা, একটা সিস্টেম আছে। ও ফার্স্ট ইয়ারের পড়ুয়া। এটা প্রাইভেট কলেজ। ওদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো উচিত। আমি ডিটেলস খবর নিয়েছি। পুলিশকে বলেছি কড়া পদক্ষেপ করতে। কেউ রেহাই পাবে না।”
বিজেপি ও সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা স্পষ্ট। তাঁদের বক্তব্য, “নারী নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসনের দায়িত্ব ঘাড় থেকে সরিয়ে দিচ্ছে সরকার।” এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, তিন অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। ঘটনাটি ঘিরে রাজ্যে ফের জেগেছে নারী নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন।
“দোষীদের কড়া শাস্তি দেওয়া হবে। কিন্তু মেয়েদের রাতের বেলায় বাইরে বেরোতে দেওয়া উচিত নয়।” – মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Popular Categories


