আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। সরকারি সভার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী নিজে একটি বেসরকারি সংস্থার দেওয়া ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ঘোষণা করায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। সাধারণত দুর্ঘটনার তদন্ত ও দায় ঠিক করার বিষয়টি প্রশাসন ও আদালতের হাতে থাকার কথা। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী কেন একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির বক্তব্য তুলে ধরছেন, তা নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে জনপ্রিয় খাদ্য সংস্থা ‘ওয়াও মোমো’। সংস্থার অন্যতম কর্ণধার ও সিইও সাগর দারিয়ানি অতীতেও মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যে শিল্প আনার উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে স্পেন গিয়েছিলেন তিনি। সেই সফরে বড় বিনিয়োগের আশ্বাসের কথা শোনা গেলেও, কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও তার বাস্তব রূপ আজও স্পষ্ট নয়। একই সফরে ঘোষিত কিছু বড় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও রাজ্যবাসীর মধ্যে সংশয় রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সঙ্গী তালিকা আগেও বিতর্কে জড়িয়েছে। অতীতে এমনও দেখা গেছে, বিনিয়োগ আনার নামে সফরসঙ্গী হওয়া একাধিক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দেশে ফিরে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এবং গ্রেপ্তারিও হয়েছে। এই অতীত অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, বর্তমান ঘটনায় কেন সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
নাজিরাবাদের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ঠিক কতজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়েও এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রশাসনের তরফে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি। সংস্থা নিজে দাবি করেছে, তাদের কারখানার ভেতরে কম সংখ্যক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, কারখানার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং শ্রমিকদের বেরোনোর সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই গুরুতর অভিযোগের এখনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।


