বুধবার ভোররাতে হুগলির রিষড়া পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মী পল্লি থার্ড লেন এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। ওই এলাকার একটি বাড়িতে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি তদন্তের সূত্র ধরে এই অভিযান বলে জানা গেছে। বিশেষ করে হুন্ডি বা অবৈধ পথে টাকা আদানপ্রদানের অভিযোগ ঘিরেই এই তল্লাশি করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রের খবর।
যে বাড়িতে ইডি আধিকারিকরা যান, সেখানে থাকেন কৈলাশকুমার বর্মা নামক এক ব্যক্তি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, তিনি হুন্ডি কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কৈলাশকুমারের দুই ছেলে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এলাকাবাসীদের বক্তব্য, ওই পরিবারটি পাড়ার লোকজনের সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা করে না। ফলে তাদের কাজকর্ম বা আয়ের উৎস নিয়ে স্পষ্ট ধারণা কারও নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে তিনটি গাড়িতে করে ইডির পাঁচজন আধিকারিক ও ছয়জন সিআইএসএফ জওয়ান ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থা ছিল গোটা এলাকাজুড়ে। বাড়ির সদস্যদের দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সকাল প্রায় ১০টা পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলে বলে জানা গেছে। তল্লাশির সময় বাড়ি থেকে কী কী নথি বা সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে ইডির তরফে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পাড়ার এক বাসিন্দা জানান, “ওই পরিবার অনেক দিন ধরেই এখানে থাকে। কিন্তু খুব চুপচাপ জীবনযাপন করে। বাজার বা চায়ের দোকানে মাঝেমধ্যে দেখা গেলেও তেমন কথা বলে না।”
এই অভিযানের পর লক্ষ্মী পল্লি এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তদন্ত এগোলে এই আর্থিক মামলার সঙ্গে ঠিক কারা জড়িত, তা আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


