বঙ্গীয় রাজনীতিতে রঙ্গ তামাশা! ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের উত্তাল হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজনৈতিক শিবিরে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) হঠাৎ করেই আইপ্যাক সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের কলকাতার লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। সকাল থেকেই প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির আধিকারিকরা নথি খতিয়ে দেখা শুরু করেন। সেই তল্লাশির মধ্যেই দুপুর আনুমানিক ১২টা নাগাদ আচমকা প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক উপস্থিতিতে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মিনিট বাড়ির ভিতরে থাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি সবুজ রঙের ফাইল হাতে বাইরে বেরোতে দেখা যায়।
এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে যান। সেখানে পৌঁছোনোর আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও মন্ত্রী হাজির ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু। দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিট নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী আইপ্যাকের বহুতল অফিসে পৌঁছন। দেখা যায়, আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশির সময় গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিধাননগর পুলিশ কমিশনার-এর অধীনস্ত পুলিশ। বহুতলের প্রবেশ ও বাহির হওয়ার দরজা সিল করে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী ভিআইপি লিফট ব্যবহার না করে বেসমেন্ট দিয়ে সাধারণ লিফটেই ১১ তলায় আইপ্যাকের অফিসে যান। তাঁর গাড়িও বহুতলের বেসমেন্টের সামনে রাখা হয়। তল্লাশির সময় আইপ্যাকের অফিস থেকে একাধিক ফাইল ও নথি নিয়ে বেরোতে দেখা যায় পুলিশকর্মীদের। সেই নথিগুলি মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ির পিছনের আসনে রাখা হয়। মুখ্যমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়।এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা যেমন প্রশ্ন তুলছে, তেমনই শাসক দল এই তল্লাশিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে। নির্বাচনের আগে এই ঘটনা বাংলার রাজনীতিতে যে আরও উত্তাপ বাড়িয়ে তুললো তা বলাই বাহুল্য।


