আন্তর্জাতিক শিশু-ধর্ষণ ও পাচার চক্রের অভিযুক্ত এবং দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত মার্কিন তদন্ত নথির নতুন পর্বে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম উঠে আসায় মোদি সরকার চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। ‘এপস্টিন ফাইলস’ নামে প্রকাশিত এই নথিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ২০১৭ সালের মার্কিন সফর, তার পর ইজরায়েল সফর এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়ে একাধিক ইমেল ও বার্তার উল্লেখ রয়েছে।
মার্কিন বিচার দপ্তরের প্রকাশিত নথিতে এপস্টিন দাবি করেন, ২০১৭ সালের জুনে মোদী-ট্রাম্প বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফর হয় এবং সেই সফর নাকি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘পরামর্শ’ মেনেই করা হয়েছিল। এপস্টিন একটি ইমেলে লেখেন, এই কৌশল ‘কাজে লেগেছে’। শুধু তাই নয়, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীকে রিপাবলিকান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে বৈঠক করানোর দাবিও করেন তিনি।
এই নথিতে শিল্পপতি অনিল আম্বানির নামও বারবার উঠে এসেছে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এপস্টিন ও অনিল আম্বানির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে আম্বানি নিজেকে মোদি সরকারের ‘ব্যাকচ্যানেল’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন বলে নথিতে ইঙ্গিত। ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং কূটনৈতিক ইস্যুতে এই কথোপকথন চলেছিল। যদিও সরকার দাবি করছে, অনিল আম্বানির এমন কোনও সরকারি ভূমিকা ছিল না।
ঘটনার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে এই বাস্তবতা যে, এপস্টিন ছিলেন শিশু পাচার ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত এক প্রভাবশালী অপরাধী, যার বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালীন লক্ষাধিক নথি উদ্ধার হয়। সেই তদন্ত নথিতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক-কর্পোরেট বৃত্তের নাম উঠে আসা স্বাভাবিকভাবেই গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
চাপে পড়ে বিদেশমন্ত্রক এপস্টিনের বক্তব্যকে “একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর কুরুচিকর কল্পনা” বলে খারিজ করেছে। কিন্তু বিরোধীদের প্রশ্ন—যদি সবই অসার হয়, তবে কেন একের পর এক ইমেলে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সফর, তাঁর ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রসঙ্গ উঠে আসছে? কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে “জাতীয় লজ্জা” আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রকের পূর্ণ ব্যাখ্যা দাবি করেছে।


