Saturday, June 6, 2026
34.9 C
Kolkata

এপস্টিন–মোদী ইমেল বিতর্কে সরগরম রাজনীতি, প্রশ্নের মুখে দাবির সত্যতা

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ও কিছু ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে একটি কথিত ইমেলকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ইমেলটির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে কুখ্যাত মার্কিন ধনকুবের জেফ্রি এপস্টিনের নাম এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০১৭ সালের বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ। যদিও এই দাবির পক্ষে এখনো পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি।

প্রচলিত দাবিতে বলা হচ্ছে, ২০১৭ সালের ৯ জুলাই তারিখের একটি ইমেলে এপস্টিন নাকি উল্লেখ করেছিলেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইজরায়েল সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার জন্য বিশেষ কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়েছিলেন। তবে এই ইমেলের সম্পূর্ণ নথি, উৎস বা সত্যতা এখনও পর্যন্ত কোনো সংস্থা যাচাই করেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে ইমেল ঘিরে এত বিতর্ক, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট প্রকাশ্যে নেই। ইমেলটি আসল কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। কোনো সরকারি নথি, তদন্তকারী সংস্থা বা আন্তর্জাতিক সংস্থার তরফে এই দাবি সমর্থন করে এমন তথ্যও সামনে আসেনি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর কিছুদিন পরেই জুলাই মাসে তিনি ঐতিহাসিক ইজরায়েল সফরে যান। এই দুটি সফরের সময়কাল কাছাকাছি হওয়ায়, তা নিয়েই বিভিন্ন মহলে নানা ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য, বিদেশ সফর সাধারণত বহু মাস আগেই পরিকল্পনা করা হয়। তাই শুধুমাত্র তারিখের মিল থাকলেই কোনো বিশেষ যোগসূত্র প্রমাণ হয় না। এখনো পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য সামনে আসেনি, যা থেকে বোঝা যায় যে জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এপস্টিনের নাম জুড়ে দেওয়ায় বিষয়টি দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। কারণ এপস্টিনের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ ও তার প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত।

এদিকে, এই বিতর্ক ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে মত অনেকের। তাঁদের প্রশ্ন, যদি সত্যিই এমন কোনো গুরুতর অভিযোগ থাকে, তবে তার পক্ষে প্রমাণ কোথায়? ইমেলটি কে যাচাই করেছে এবং কেন এতদিন পর এই দাবি সামনে আনা হলো?

বর্তমানে পর্যন্ত এই ইমেল সংক্রান্ত দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চললেও, তথ্যের অভাবে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাচাই ছাড়া কোনো দাবি ছড়ালে তা জনমনে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। তাই এই বিতর্কে আবেগের বদলে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি বিচার করাই প্রয়োজন।

Hot this week

কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে, জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের

কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে বড়সড় আইনি বিড়ম্বনায় জড়ালেন...

চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে বড় সাফল্য! অবশেষে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত গ্যাংস্টার মনুর

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ...

বাংলাদেশ পালানোর ছক! শওকত মোল্লাকে ‘পলাতক’ ঘোষণা করল এনআইএ, সীমান্তে জারি কড়া সতর্কতা

ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে নেমে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক...

Topics

কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে, জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের

কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে বড়সড় আইনি বিড়ম্বনায় জড়ালেন...

চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে বড় সাফল্য! অবশেষে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত গ্যাংস্টার মনুর

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ...

বাংলাদেশ পালানোর ছক! শওকত মোল্লাকে ‘পলাতক’ ঘোষণা করল এনআইএ, সীমান্তে জারি কড়া সতর্কতা

ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে নেমে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক...

কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম, রাজ্য রাজনীতির সমীকরণে বিরাট ওলটপালট

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর থেকেই কলকাতা পুরসভায়...

শাহজাদ আলি গণপিটুনি মামলায় ৫ জন গ্রেফতার, তদন্ত গাফিলতির অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা

বিহারের সিওয়ান জেলার শিবরাজপুর গ্রামে এক মুসলিম যুবককে গণপিটুনির...

Related Articles

Popular Categories