আলিনুর মন্ডল,বসিরহাট: কখনও আইপিএস অফিসার, তো কখনও মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিয়ে দামী বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল বাদুড়িয়ার এক যুবক। শুধু তাই নয়, চাকরি দেওয়ার নাম করে তুলছিল লাখ লাখ টাকা। সেই প্রতারককে শেষ পর্যন্ত ধরে ফেলল স্বরূপনগর থানার পুলিশ।
পুলিস সূত্রে খবর, ধৃত ওই যুবকের নাম বাকিবিল্লা গাজি। বাড়ি বাদুড়িয়া থানার মাগুরআইট গ্রামে। বুধবার রাতে স্বরূপনগরের তেঁতুলিয়া থেকে গ্রেফতার করে পুলিস। আজ তাকে বসিরহাট এসিজেএম আদালতে তোলা হলে তাকে ৭ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পুলিসের কাছে খবর আসে, কখনও নিজেকে আইপিএস, কখনও গোয়েন্দা দফতরের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে লোক ঠকানো শুরু করেছে এক ব্যক্তি। অভিযোগের তদন্তে নেমে স্বরূপনগর থানার ওসি জানতে পারেন বছর তিরিশের ওই ব্যক্তির নাম । তার শ্বশুরবাড়ি স্বরূপনগরের সীমান্তবর্তী এলাকা গোকুলপুর গ্রামে। তবে প্রতারণার সুবিধার্থে কখনও গোকুলপুর, কখনও সায়েস্তানগরে থাকত। বাকিবিল্লার বাইকের সামনে লেখা থাকত আরবি দফতর।
স্বরূপনগরের বাসিন্দা দেবকুমার সরকার পুলিসকে জানায়,পুলিসের চাকরি দেওয়ার নাম করে বাকিবিল্লা তার কাছ থেকে দফায় দফায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা নিয়েছে। দেবকুমারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিস বাকিবিল্লাকে তেঁতুলিয়া খালধার থেকে গ্রেফতার করে।
পুলিসের দাবি, জেরায় ওই ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিস জানতে পেরেছে কেবল দেবকুমারই নয়,গত কয়েক মাসে বাকিবিল্লার স্বীকার হয়েছে অন্তত ১৫ জন। তাঁদের কাছ থেকে পুলিসে চাকরির নাম করে ৪৫-৫০ লাখ টাকা হাতিয়েছে বাকিবিল্লা। কেবল ভূয়ো চাকরি দেওয়াই নয়, বাকিবিল্লা ভূয়ো পোস্টিংও করে দেওয়ার নাম করেও প্রতরণা করত। চাকরির আশায় কেউ জমি বিক্রি করে টাকা জোগাড় করে দেয়। তার কাছ থেকে নকল আরবি এবং আইপিএস-এর পরিচয়পত্র উদ্ধার করেছে পুলিস।
প্রথম বর্ষের ছাত্র দেবকুমার সরকার বলেন,নিজেকে আইপিএস বলে পরিচয় দিয়ে গোয়েন্দা দফতরের সাব ইনস্পেকটরের চাকরি দেবে বলে আমার কাছ থেকে দফায় দফায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা নিয়েছে। এখন জানতে পারছি বাকিবিল্লা আসলে একজন প্রতারক।