জম্মু-কাশ্মীর, ৩০ জুন ২০২৫: — অপারেশন সিন্ধুর কাভারেজে একজন শহীদ ইসলামিক স্কলারকে “পাকিস্তানি সন্ত্রাসী” বলে চিহ্নিত করার অভিযোগে জি নিউজ ও নিউজ১৮ ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর রেজিস্ট্রেশনের নির্দেশ দিয়েছে পুনছ আদালত। বিশেষ মোবাইল ম্যাজিস্ট্রেট শফিক আহমদের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, “সাংবাদিকতার নামে ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচার সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানোর সমতুল্য”।
গত সপ্তাহে উভয় চ্যানেল ৫৭ সেকেন্ডের একটি ক্লিপে জামিয়া জিয়া-উল-উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক ক্বারি মুহাম্মদ ইকবালের ছবি ও নাম প্রকাশ করে দাবি করে: তিনি নিষিদ্ধ লস্কর-ই-তৈয়বার “সক্রিয় সদস্য”, ২০১৯ পুলওয়ামা হামলার সাথে জড়িত, পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে নিহত হওয়ার খবর “মিথ্যা” বলেছেন।
বাস্তবে, ইকবাল ২০২০ সালে লাইন অব কন্ট্রোলে পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে নিহত হন। তাঁর পরিবার আদালতে জানায়, “এই মিথ্যা প্রচারে গ্রামে আমাদের বাড়িতে পাথর নিক্ষেপ হয়েছে, শিশুদের স্কুলে গঞ্জনা দেওয়া হচ্ছে”।
আদালতের রায়ে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:- সংবিধানের ১৯(১)(ক)-এর স্বাধীনতা ১৯(২)-এর “জনশৃঙ্খলা ও মানহানি” রোধের শর্তের অধীন। “ডিজিটাল লিঞ্চিং” এর মাধ্যমে শুধু মৃত ব্যক্তিকেই নয়, সমগ্র মুসলিম সমাজকে টার্গেট করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৬ ধারা ও বিএনএসের ৩৫৩(২), ৩৫৬ ও ১৯৬ ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে “বিষয়টি দিল্লির এখতিয়ারভুক্ত” বলে পুলিশের যুক্তি খারিজ করে আদালত বলেছে, “অপরাধের প্রভাব যেখানে পড়েছে, সেখানেই মামলা চলবে”।
এই ঘটনা বিজেপি-সমর্থিত মিডিয়ার ইসলামোফোবিয়ার রাজনৈতিক অস্ত্রায়ন কে উন্মোচিত করেছে: ২০২৩ সাল থেকে “সন্ত্রাসবাদের” নামে মুসলিম ব্যক্তিত্বদের টার্গেট করার ১৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছর রাজস্থানে এক বিজেপি নেতার “ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি” থেকে অপারেশন সিঁদুরের ভুয়া ভিডিও সরবরাহের প্রমাণ মিলেছে। পুলওয়ামা হামলার শিকার ৪০ সেনার পরিবার গত মার্চেই বিবৃতি দিয়েছিল: “আমাদের ব্যথাকে রাজনৈতিক মুনাফা তুলবেন না”।
পুনছের স্থানীয় সাংবাদিক আরিফ আজমের কথায়: “সীমান্তে শাহাদাত বরণ করা মানুষকে ‘সন্ত্রাসী’ সাজানোর এই খেলা নতুন নয়। এটা উগ্র হিন্দুত্ববাদের রক্তপিপাসু মুখ, যে সত্যিকে গিলে ফেলতে চায়”। আদালতের রায় দেবার পর এখন প্রশ্ন কতদিনে আসল অপরাধীরা বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ায়।


