পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের একটি গ্রামকে ঘিরে ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সংশোধন প্রক্রিয়ার পর ওই এলাকার বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা বেশ বেশি বলে স্থানীয়দের দাবি।
এই ঘটনায় বিশেষভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে কারণ তালিকা থেকে নাম কাটা গেছে এক প্রাক্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, মহম্মদ মতিনের, বয়স প্রায় ৭৬ বছর। দীর্ঘদিন প্রশাসনে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। চাকরি জীবনে তিনি ভোট সংক্রান্ত নানা দায়িত্ব পালন করেছেন। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা থেকে শুরু করে নির্বাচন পরিচালনার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
অবসর নেওয়ার পরও তিনি সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু এবার নিজের নামই ভোটার তালিকায় না থাকায় তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দেওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ তাঁর নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। এমনকি শুনানিতে উপস্থিত হয়েও তিনি কোনো সুরাহা পাননি।
শুধু মহম্মদ মতিন নন, তাঁর পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের নামও তালিকা থেকে বাদ গেছে। এতে তাঁদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁর ছেলে জানিয়েছেন, বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মায়ের ভোটাধিকার না পাওয়া অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের মোট কয়েকশো মানুষের নাম যাচাইয়ের জন্য রাখা হয়েছিল। পরে তার মধ্যে অধিকাংশের নাম চূড়ান্ত তালিকায় আর জায়গা পায়নি। গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটার তালিকায় এমন বড় পরিবর্তন ভবিষ্যতের নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই নিজেদের কৌশল নতুন করে সাজাতে শুরু করেছে।


