ফুরফুরা শরীফে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ। বৃহস্পতিবার ভোররাতে ফুরফুরা শরীফের বিশিষ্ট পীর ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হযরত মাওলানা আবদুল্লাহ সিদ্দিকী হুজুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে ওনার বয়স হয়েছিল প্রায় ৭০ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, উমরাহ পালন করে ফেরার পর থেকেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চলছিল। অবস্থার অবনতি হলে চলতি সপ্তাহের সোমবার ওনাকে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি পরলোক গমন করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফুরফুরা শরীফ সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ভক্ত, অনুরাগী ও সাধারণ মানুষ দলে দলে ফুরফুরা শরীফে পৌঁছে পরিবারকে সমবেদনা জানান। ধর্মীয় মহলেও এই মৃত্যু গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে।
১৯৫৬ সালে ফুরফুরা শরীফে জন্মগ্রহণ করা পীর সাহেব ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষায় বড় হন। পীর বড় হুজুর ও সহধর্মিণীর তত্ত্বাবধানে ওনার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। পরে তিনি ফুরফুরা সিনিয়র টাইটেল মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। স্পষ্টভাষী আলেম হিসেবে ওনার পরিচিতি ছিল সর্বত্র। সারা জীবন তিনি ফুরফুরা শরীফের দরবার ও শিলশিলার খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ঐতিহাসিক ঈসালে সওয়াবের আখেরি দোয়ায় দীর্ঘদিন ওনার দায়িত্ব ছিল উল্লেখযোগ্য। পীর হযরত মাওলানা আবদুল্লাহ সিদ্দিকী হুজুরের ইন্তেকালে উপমহাদেশের ধর্মীয় অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, এমনটাই মনে করছেন বহু বিশিষ্টজনেরা।


