পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে নতুন করে উত্তেজনা। ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলকে ঘিরে চলা সংঘাত এখন অনেক বেশি সংবেদনশীল ও বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনিসহ একাধিক উচ্চপদস্থ সামরিক আধিকারিক ও আইআরজিসি কমান্ডারের মৃত্যুর খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই ঘটনাগুলি ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘর্ষের ইঙ্গিত দিতে পারে।
তবে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, যদি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়েও দেওয়া হয়, তাতে কি সত্যিই দেশের শাসনব্যবস্থা বদলে যাবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সামরিক আঘাত বা বিমান হামলা দিয়ে কোনও দেশের গভীরে প্রোথিত রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া সহজ নয়। ইতিহাসে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের অতীত ঘটনাও সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।
ইরানের অভ্যন্তরে এখন জাতীয়তাবাদী আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতি অনেক বেশি জোরালো হয়ে উঠছে। প্রায় ৯ কোটির বেশি মানুষের এই দেশে শক্তিশালী ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রয়েছে। ফলে বাইরের চাপ বা আক্রমণ দেশের ভেতরের বিভেদকে চাপা দিয়ে বিপরিত ভাবে জনগণকে আরও একত্রিত করতে পারে। এতে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে গড়াতে পারে, যার প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলে নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও পড়বে।
বর্তমান অবস্থায় এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে নানা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান হয়তো সরাসরি বড় আঘাত না হেনে সীমিত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। আবার অন্যদিকে, সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার পাল্টা ঘটনাও দীর্ঘদিন চলতে পারে। এতে পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও প্রভাবিত হতে পারে।
এই সংকট ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রায় ৯৫ লক্ষ ভারতীয় কাজ করেন। তাদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ভারতের জ্বালানি আমদানির বড় অংশই এই অঞ্চল থেকে আসে। তাই যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তেলের দাম বাড়া, পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ—সবই ভারতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে মনে করছেন অনেকেই।


