আসামের রাজনীতিতে ভোটের আগে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে ঘিরে। সম্প্রতি একটি ভিডিও ও একাধিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি ওঠে। এই পরিস্থিতিতে গৌহাটি হাইকোর্ট মুখ্যমন্ত্রীকে নোটিস পাঠিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ২১ মার্চের মধ্যে তাঁকে লিখিতভাবে জবাব দিতে হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার, আসাম সরকার এবং আসাম পুলিশের ডিজিপিকেও নোটিস দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মুখ্যমন্ত্রীকে মুসলিম সম্প্রদায়ের দিকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে দেখা যায়। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক শুট’। ভিডিও প্রকাশের পর দেশ-বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিরোধী দলগুলির দাবি, এ ধরনের দৃশ্য ও মন্তব্য মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে এবং সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছে।
এই ঘটনার পর বাম দল সিপিএম ও সিপিআই সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে। বিশিষ্ট চিন্তাবিদ হীরেন গোঁহাই-সহ আরও কয়েকজন একই ধরনের আবেদন জানান। তবে প্রথম শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আগে হাইকোর্টে বিষয়টি উত্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি গৌহাটি হাইকোর্টকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি গৌহাটি হাইকোর্টে নতুন করে আবেদন জমা পড়ে। কয়েক দিনের মধ্যে আরও একটি আবেদন করা হয়। প্রধান বিচারপতি আশুতোষ কুমারের নেতৃত্বে বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়।আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে আদালতে একাধিক ভিডিও ক্লিপ জমা দেওয়া হয়। আইনজীবীরা দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থী এবং তা মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্বেগজনক। আপাতত আদালত অভিযুক্তদের নোটিস জারি করছে বলে তিনি জানান। আগামী শুনানির আগেই জবাব দিতে হবে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যতে আদালত কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রয়োজন হলে ফৌজদারি ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া, বিশেষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া অথবা বিতর্কিত মন্তব্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে আসামে শিগগিরই বিধানসভা নির্বাচন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বেই বিজেপি ভোটে লড়বে। তবে এই আইনি জটিলতা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে ঘটনাটি আসামের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


