গাজায় চলা ইসরায়েলি হামলা এখন নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছানোয় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাবকে ঘিরে মতভেদ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। রবিবার হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তা বাসিম নাঈম জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া খসড়া পরিকল্পনায় এখনো তাদের কাছে পরিষ্কার না।
নাঈম জানান, বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময় হামাস তাদের অস্ত্র সংরক্ষণ বা স্থগিত রাখার বিষয়ে আলোচনা করতে পারে। তবে কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনী এসে নিরস্ত্রীকরণের দায়িত্ব নিক, এটি তারা মানবে না। তার দাবি, সীমান্ত এলাকায় জাতিসংঘের বাহিনী মোতায়েন হলে হামাস আপত্তি করবে না, তবে সেই বাহিনীকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর কোনো ধরনের ক্ষমতা দেওয়া যাবে না।
এদিকে একই দিন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেঅতানিয়াহু জানিয়ে দেন, মাসের শেষে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। আলোচনার মূল বিষয় হবে গাজায় হামাসের শাসন শেষ করা এবং অঞ্চলটির সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, গাজায় যে আন্তর্জাতিক বাহিনী পাঠানোর কথা হচ্ছে, তাদের প্রধান কাজ হওয়া উচিত ইসরায়েলি বাহিনী ও হামাসকে আলাদা রাখা, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ নয়।
এদিকে কাতার ও মিশর দ্রুত স্থিতিশীলতা বাহিনী পাঠানোর আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি এখন সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির পর ৫০ দিনের মধ্যে ইসরায়েল ৫৯১টি লঙ্ঘন করেছে। এই ঘটনায় ৩৫৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৯০৩ জন আহত হয়েছেন। তারা আরও জানিয়েছে, অসামরিক মানুষের ওপর গুলি চালানো, বাড়ি ও ত্রাণশিবিরে হামলা, সামরিক যান নিয়ে আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়া,সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষের মতে,ইসরাইলের এই কার্যকলাপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।


