গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত গাজায় সহিংসতার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
‘গাজা মর্টালিটি সার্ভে’ নামে একটি সমীক্ষায় এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৭৫ হাজার ২০০ জন সহিংস ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর আগে গাজার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২২ লক্ষ। সেই হিসাবে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩.৪ শতাংশ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে সহিংস মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৯ হাজারের কিছু বেশি। অর্থাৎ নতুন সমীক্ষার হিসাব সরকারি তথ্যের তুলনায় অনেকটাই বেশি। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যানকে বাড়িয়ে বলা হয়নি, বরং বাস্তব পরিস্থিতিতে অনেক মৃত্যু নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, যুদ্ধে অন্তত ৭২ হাজার ৬৩ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরেও কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। যদিও ইসরাইল বহুবার এই পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটির এক সেনা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা তারা মেনে নিচ্ছেন।
সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যা মোট মৃত্যুর ৫৬ শতাংশের বেশি। প্রায় দুই হাজার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষণার নেতৃত্বে থাকা লন্ডনের রয়্যাল হলোওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল স্প্যাগাট জানান, অবকাঠামো ভেঙে পড়ায় অনেক মৃত্যু নথিভুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একই সাময়িকীতে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় প্রথম নয় মাসে প্রায় ৬৪ হাজার মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল। নতুন সমীক্ষা সরাসরি পরিবারের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে করা হয়েছে, যা মৃত্যুর সংখ্যা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।


