গাজায় চলমান সংঘর্ষের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর অনুযায়ী, খাদ্য সাহায্যের জন্য অপেক্ষারত অন্তত ২৯ জন ক্ষুধার্থ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এই হামলায় আহতদের সংখ্যা এতটাই বেশি যে স্থানীয় হাসপাতালগুলো তাদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হিমশিম খাচ্ছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতার মধ্যেও একটি আশার আলো দেখা গেছে। হামাস জানিয়েছে, তারা ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে এখনই আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত। এই যুদ্ধবিরতি গাজার মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর পথ সুগম করতে পারে, যা এখন তাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
হামাসের এই ঘোষণার সঙ্গে তাদের মিত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদও সায় দিয়েছে। তারা যুদ্ধবিরতির আলোচনার পরিকল্পনাকে সমর্থন করলেও একটি শর্ত জুড়েছে। তারা চায়, এই আলোচনা শুধু সাময়িক শান্তি নয়, বরং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যাক এবং এর জন্য নিশ্চয়তা থাকতে হবে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার পর। ঠিক এই সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হবে। ট্রাম্প গত ২১ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধ করতে চাপ দিয়ে আসছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৭,২৬৮ জন মারা গেছেন এবং ১৩৫,৬২৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলায় প্রায় ১,১৩৯ জন নিহত হয়েছিলেন এবং ২০০ জনের বেশি মানুষকে বন্দি করা হয়েছিল। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা শুধু সংখ্যায় নয়, গাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কষ্টেও প্রকাশ পাচ্ছে। খাদ্য, ওষুধ আর আশ্রয়ের অভাবে তারা দিন গুজরান করছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির আলোচনা অনেকের কাছে একটি নতুন সম্ভাবনা হয়ে উঠেছে।


