জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে গাজায় গর্ভবতী মহিলা ও নবজাতকদের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। লাগাতার হামলা, অবরোধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইউএন হিউম্যান রাইটস অফিস – এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, উপত্যকার প্রায় সমস্ত হাসপাতালই ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফলে গর্ভবতী মহিলা ও সদ্যোজাত শিশুদের চিকিৎসা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, এমনকি গর্ভাবস্থায় দরকারি পুষ্টিকর খাদ্যও গাজায় পৌঁছাতে পারছে না। এর ফলে নিরাপদ প্রসবের সুযোগ কমে গেছে ভয়াবহ ভাবে। আগের তুলনায় গাজায় প্রসবকালীন মৃত্যুহার তিন গুণ বেড়ে গেছে। গর্ভপাত ও নবজাতকের মৃত্যুহারও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
লাগাতার ইসরাইলি হামলার ফলে হাসপাতালের মাতৃসদন ও নবজাতক ইউনিটগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক বছর আগের একটি হামলায় গাজার বৃহত্তম ফার্টিলিটি ক্লিনিক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এমনকি চিকিৎসকেরাও চরম ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১,৭২২ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। গাজায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আম্বরিন সিলিমি জানান, চারপাশে বিস্ফোরণের শব্দের মধ্যেই চিকিৎসা চালাতে হয়েছে। অনেকসময় হামলায় আহত নার্সদের হাসপাতালের ভিতরেই লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, বহু গর্ভবতী মহিলা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আসছেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসা, ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক না থাকায় অনেক মহিলার মৃত্যু ঘটছে সংক্রমণের কারণে। জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানিয়েছে, গাজায় প্রায় ১.৫ লাখ গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীর জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রায় অপ্রাপ্ত।


