ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় গাজা এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্কুল, হাসপাতাল, ঘর-বাড়ি কিছুই রক্ষা পায়নি বোমাবর্ষণ থেকে। শহরের বহু এলাকা কার্যত বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) কয়েকটি জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করছে। কিন্তু এই সব এলাকাতেও বারবার হামলা হয়েছে ক্রমশ, প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা জিএইচএফ-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই অবস্থায় যারা এখনো প্রাণে বেঁচে আছে, তাদের জীবনধারণের জন্য ত্রাণই একমাত্র ভরসা। তাই ভোর হওয়ার আগেই তারের বেড়ার সামনে লাইনে দাঁড়ান গাজার বাসিন্দারা। কারও হাতে প্লাস্টিকের বাটি, কেউ সঙ্গে এনেছে জিএইচএফ-এর দেওয়া নথি। এমনই এক ত্রাণকেন্দ্রের ড্রোন ফুটেজে দেখা গেছে কয়েকজন মার্কিন নাগরিককে। তাদের শরীরে কোনো বাহিনীর ব্যাজ নেই। তারা স্থানীয় শ্রমিকদের বলে দিচ্ছেন কীভাবে ট্রাক থেকে খাবার নামানো ও বিতরণ করতে হবে। তদন্তে জানা গেছে, এরা সেনা নন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি সংস্থা ‘ইউজি সলিউশনস’-এর কর্মী।
ইতিমধ্যেই জিএইচএফ পরিচালিত বিভিন্ন ত্রাণকেন্দ্রে তাদের দেখা যাচ্ছে। এমনকি গাজায় নতুন কর্মী নিয়োগও শুরু করেছে সংস্থাটি। মার্কিন সেনাবাহিনীর এক সাবেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষদিকে তাকেও একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তবে পরে জানানো হয়, প্রচুর আবেদন জমা পড়ায় তাকে নেওয়া হয়নি।
এদিকে গাজার ত্রাণের লাইনে মে থেকে অক্টোবরের মধ্যে ২,৬০০-রও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১৯ হাজারের বেশি। ইউজি সলিউশনস জানিয়েছে, তারা ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টেবিলাইজেশন ফোর্স’–এর (আইএসএফ) সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তার স্বার্থে এই কাজ করছে। এদিকে আইএসএফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনস্থ ‘বোর্ড অফ পিস’-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। ফিলিস্তিনের একাধিক রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই এই মার্কিন পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল যা করতে পারেনি, যুক্তরাষ্ট্র এখন সেই লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করছে ভিন্ন পথে।


