গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন বুধবার দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত ডেলিভারি দিনের মধ্যেই এই কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। সংগঠনগুলির অভিযোগ, প্ল্যাটফর্ম সংস্থাগুলি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি শোনার বদলে হুমকি ও চাপের পথ বেছে নিচ্ছে। ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অফ অ্যাপ-বেসড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স (আইফ্যাট) এবং তেলেঙ্গানা গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (টিজিপিডব্লিউইউ) জানিয়েছে, বড়দিনের আগের দিন হওয়া দেশজুড়ে হঠাৎ কর্মবিরতিতে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী অংশ নিয়েছিলেন। এর ফলে বহু এলাকায় ডেলিভারি পরিষেবা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাহত হয়। তবে সংস্থাগুলি আলোচনায় না বসে ভয় দেখানোর কৌশল নিয়েছে বলে অভিযোগ।
টিজিপিডব্লিউইউ-এর সভাপতি ও আইফ্যাটের সাধারণ সম্পাদক শেখ সালাউদ্দিন বলেন, কর্মীদের আইডি ব্লক করা, ফোনে হুমকি, পুলিশি চাপ এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তার অভিযোগ, ধর্মঘট ভাঙতে তৃতীয় পক্ষের ডেলিভারি সংস্থা নামানো হয়েছে, অতিরিক্ত প্রণোদনার লোভ দেখানো হয়েছে এবং বন্ধ থাকা আইডি আবার চালু করা হয়েছে। সংগঠনগুলির দাবি, দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৭০ হাজারের বেশি গিগ ও অ্যাপ-ভিত্তিক কর্মী ধর্মঘটে নামার কথা জানিয়েছেন। সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
কর্মীদের অভিযোগ, প্রতি অর্ডারে পারিশ্রমিক ক্রমাগত কমছে। দূরত্ব ও সময়ের ভিত্তিতে মজুরি হিসাব তুলে দেওয়া হচ্ছে। ১০ মিনিটে ডেলিভারির মতো বিপজ্জনক মডেলের কারণে দুর্ঘটনা এবং মানসিক চাপ বাড়ছে। তথাকথিত ‘ফ্লেক্সিবিলিটি’ আসলে মিথ্যা বলেও দাবি করেন তারা। বাস্তবে বহু কর্মীকে ৮–১০ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
গিগ কর্মীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দ্রুত ডেলিভারির কোনও সামাজিক প্রয়োজন নেই। কর্পোরেট প্রতিযোগিতার জন্য মানুষের জীবন বিপন্ন করা যায় না। শ্রমিক সংগঠনগুলি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়াকে চিঠি দিয়ে শ্রম আইনের আওতায় গিগ সংস্থাগুলিকে আনার, নিরাপদ ডেলিভারি নীতি চালু করার, সামাজিক সুরক্ষা ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।


