গুজরাতের আমদাবাদের জামালপুর বিধানসভা এলাকায় ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। চলতি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ার সময় শত শত মুসলিম ভোটারকে ‘মৃত’ দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা বলেই মনে করছে বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলি।
জামালপুরের একাধিক ওয়ার্ড থেকে অভিযোগ এসেছে, অনেক ভোটার জীবিত থাকা সত্ত্বেও এবং SIR-এর ফর্ম পূরণ করার পরও তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রাথমিক খসড়া তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে ‘ফর্ম ৭’-এর মাধ্যমে তাদের মৃত বা স্থানান্তরিত দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, এই ফর্মগুলি মূলত বিজেপির কর্মীরা জমা দিয়েছেন। ওয়ার্ড নম্বর ১৯-এর এক বাসিন্দা আরব ফরিদ মিয়ানের ক্ষেত্রে এমনই একটি ঘটনা সামনে এসেছে। তিনি জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে।এমনকি ফর্মে দেওয়া ভোটার নম্বরও তার কার্ডের সঙ্গে মিলছে না।
আরেক ঘটনায়, জামালপুরের পুরসভার কাউন্সিলর রফিক শেখ কুরেশির নামেও আপত্তি জমা পড়ে। তাকে নাকি ঠিকানা বদলকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ যিনি আপত্তি করেছেন, তিনি অন্য একটি ভোটকেন্দ্রের ভোটার। এতে প্রশ্ন উঠেছে, তৃতীয় কোনও ব্যক্তি কীভাবে এই ধরনের আপত্তি জানাতে পারেন। সংখ্যালঘু সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মুজাহিদ নাফিস বলেন, এটি কোনও ভুল নয়, বরং একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। তার দাবি, জামালপুর এলাকায় প্রায় ৩০০টি ফর্ম ৭ জমা পড়েছে এবং পুরো বিধানসভা এলাকায় এই সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়াতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংখ্যালঘু সমন্বয় কমিটি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। পাশাপাশি কংগ্রেস নেতৃত্ব ভুয়ো আপত্তি দাখিলকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআরের দাবি জানিয়েছে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এখনও এই অভিযোগে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া না দিলেও, সংশ্লিষ্ট মহলের মতে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় এভাবে ভোটার বাদ পড়লে সুষ্ঠু নির্বাচন বড় প্রশ্নের মুখে পড়বে।


