গাজার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও সেখানে ফিলিস্তিনিদের মতামতই নেই—এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে যে পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের কথা উঠে আসছে, সেখানে মূল ভুক্তভোগী ফিলিস্তিনিদেরই বাইরে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
খবরে প্রকাশ, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার প্রশাসন ও পুনর্গঠন নিয়ে একাধিক দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। কিন্তু সেই বৈঠকে গাজার সাধারণ মানুষ বা ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের কোনও সরাসরি উপস্থিতি নেই। ফলে প্রশ্ন উঠছে—যে ভূখণ্ডে তাঁরা বাস করেন, সেই জায়গার ভবিষ্যৎ কি তাঁদের বাদ দিয়েই নির্ধারণ করা হবে?
ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের দাবি, গাজার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা কখনও টেকসই হবে না। তাঁদের বক্তব্য, শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও বাস্তবে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিও এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানুষের জীবন, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ—সবকিছুই জড়িয়ে রয়েছে। অথচ সেই মানুষদের কথা না শুনেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা জানা গেছে, যেখানে গাজার পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। তবে সেই বৈঠকেও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্ব থাকবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গাজায় স্থায়ী শান্তি ফেরাতে হলে শুধু কূটনৈতিক আলোচনা নয়, সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যাকে গুরুত্ব দিতে হবে। নইলে এই ধরনের পরিকল্পনা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।
এখন আন্তর্জাতিক মহলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব—ফিলিস্তিনিদের বাদ দিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত আদৌ কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, সেটাই দেখার।


