গুজরাটে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। জুনাগড় জেলায় প্রখ্যাত লোকশিল্পী মীর হাজিভাই কাসামভাই, যিনি হাজি রামাকডু নামেই বেশি পরিচিত, তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, সম্প্রতি এই শিল্পীকেই পদ্মশ্রী পুরস্কার ২০২৬-এর জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
৮০ ঊর্ধ্ব হাজি রামাকডু দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে লোকসংগীতের সঙ্গে যুক্ত। ঢোলক বাজিয়ে ভজন, সান্তবাণী, গজল ও কাওয়ালিতে তার অবদান শুধু গুজরাট নয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও প্রশংসিত। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে তার শিল্পীজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করার ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু সেই সম্মানের মাঝেই শুরু হয়েছে নতুন এক সমস্যা। রাজ্যে চলা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় ফর্ম-৭ জমা দিয়ে এক ব্যক্তি দাবি করেন, হাজি রামাকডু নাকি স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। সেই যুক্তিতে তার নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলার আবেদন জানানো হয়। অভিযোগ, আবেদনকারী একজন স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলর।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। দলের বক্তব্য, হজি রামাকডু বহু বছর ধরেই জুনাগড়ে বসবাস করছেন এবং তার ভোটার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও কারণ নেই। কংগ্রেস মুখপাত্র মনীশ দোশি বলেন, “যার শিল্প গুজরাট ও দেশকে গর্বিত করেছে, আজ তার নাগরিক অধিকার নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, এই ধরনের আবেদন খতিয়ে দেখা দরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। কংগ্রেসের মতে, এর আগেও পদ্মশ্রী প্রাপ্ত কৌতুকশিল্পী শাহাবুদ্দিন রাঠোরের ক্ষেত্রেও একইভাবে তার অজান্তে ফর্ম-৭ জমা পড়েছিল।
নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আগে প্রশাসনকে বিষয়টি যাচাই করতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হয়। যদিও এই নির্দিষ্ট ঘটনায় এখনও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি। গোটা বিষয়টি নিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


