গুজরাটের ভাবনগর শহরে রেলওয়ে নিয়োগ বোর্ডের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে হিজাব পড়া নিয়ে এক মুসলিম পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ ডিসেম্বর। ভাবনগরের এসমিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি ইনফোটেক কেন্দ্রে ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছান এবং পরীক্ষার সব নিয়ম মেনে চলেন। তবে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা তার পরিচয় যাচাইয়ের সময় হিজাব খুলতে বলেন। এখান থেকেই সমস্যার সূত্রপাত হয়।
পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, তিনি পুরুষ কর্মীদের সামনে হিজাব খুলতে রাজি হননি। তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, একজন মহিলা কর্মীর মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করাতে তার কোনও আপত্তি নেই। তিনি অনুরোধ করেন, যেন একজন মহিলা পরিদর্শক ডেকে তার মুখ ও পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হয়। তবুও তার এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি।
এরপর তাকে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দ জানিয়েছে, ওই সময় কিছু কর্মীর আচরণ ছিল অত্যন্ত আপত্তিকর। সংগঠনের দাবি, এক পরিদর্শক পরীক্ষার্থীকে এমন মন্তব্য করেন যা অপমানজনক এবং বৈষম্যমূলক। এই ঘটনার ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই ছাত্রী।
সংগঠনটি জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে জানিয়েছে, পরীক্ষার্থী কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করেননি। তিনি নিয়ম মেনে সহযোগিতা করেছেন এবং কর্তব্যরত কর্মীদের কাজে বাধা দেননি। তাদের দাবি, সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রে উপস্থিত কিছু কর্মীর তরফ থেকেই নেওয়া হয়েছিল।
জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দ এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরীক্ষার্থীর কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নতুন সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।


