অসমের গুয়াহাটিতে অবস্থিত বালাজি মন্দিরে চুরির ঘটনা সামনে আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মন্দিরের দানবাক্স ভেঙে নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা জানার চেষ্টা চলছে।জানা গিয়েছে, গুয়াহাটির বেতকুচি এলাকার পূর্ব তিরুপতি শ্রী বালাজি মন্দিরে বুধবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে মন্দিরের কর্মীরা নিয়মিত কাজের জন্য এসে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখতে পান। মন্দির চত্বরে একাধিক দানবাক্স ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, বাক্সগুলির ভিতরে থাকা অর্থ আর নেই।মন্দির কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, চুরির আগে মন্দিরে লাগানো নজরদারি ক্যামেরাগুলি অচল করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে ঘটনার কোনও ভিডিও রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এতে তদন্তের কাজ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে পুলিশ আশপাশের এলাকার অন্যান্য ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে।মন্দির কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, শুধু বালাজি মন্দির নয়, একই প্রাঙ্গণে থাকা দুর্গা মন্দির এবং পদ্মাবতী মন্দিরের দানবাক্সও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকেও অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি মন্দিরের কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র নিখোঁজ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু ভক্ত এবং স্থানীয় বাসিন্দা মন্দিরে ভিড় করেন। তাঁদের অনেকেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। স্থানীয়দের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এই মন্দির এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। অতীতে এমন কোনও বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেনি। তাই হঠাৎ এই ঘটনার কারণে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।পুলিশ জানিয়েছে, মন্দির কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। দুষ্কৃতীরা কীভাবে মন্দিরে ঢুকেছিল, কতজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ কত—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা মন্দিরের কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলছেন।সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে গুয়াহাটির এই ঘটনাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তদন্তকারীদের একাংশের মতে, ঘটনার পিছনে স্থানীয়ভাবে পরিচিত কেউ জড়িত থাকতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ।
Popular Categories


