দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও নেতৃত্ব সংকটের মধ্যে নিজেদের সংগঠন নতুন করে গুছিয়ে নিচ্ছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। গাজা যুদ্ধে শীর্ষ দুই নেতা ইসমাইল হানিয়া ও ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর সংগঠনের ভেতরে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়। সোমবার সংগঠন সূত্র মারফত খবর পাওয়া গেছে, এমন সংকট জনক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতেই অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে হামাস। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে গাজার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনা করে যেখানে পরিবেশ তুলনামূলক নিরাপদ ও অনুকূল হবে, সেখানেই ভোট গ্রহণ করা হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব ঠিক করা হবে।
নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হামাস ৫০ সদস্যের একটি ‘শুরা কাউন্সিল’ গঠন করবে। প্রতি চার বছর অন্তর গাজা উপত্যকা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং বিদেশে থাকা হামাসের তিনটি শাখা থেকে এই কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত করা হয়। এমনকি ইসরাইলের কারাগারে বন্দি থাকা হামাস সদস্যরাও এই ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এই শুরা কাউন্সিলই পরে ১৮ সদস্যের পলিটব্যুরো এবং সংগঠনের প্রধান নেতাকে নির্বাচন করে। বর্তমানে হামাস কাতারভিত্তিক একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে পলিটব্যুরোর প্রধান হিসেবে কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন খলিল আল-হায়া। তিনি গাজার বাসিন্দা এবং যুদ্ধবিরতি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। হামাসের সামরিক শাখা ও শুরা কাউন্সিল, দুই পক্ষেরই সমর্থন তিনি পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। অপর একটি আলোচিত নাম খালেদ মিশাল। তিনি ২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত হামাসের প্রধান ছিলেন এবং বর্তমানে প্রবাস শাখার দায়িত্বে আছেন। এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিম তীরের নেতা জাহের জাবারিন এবং শুরা কাউন্সিলের প্রধান নিজার আওয়াদাল্লাহ।


