হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ (কেভ অব দ্য প্যাট্রিয়ার্কস) ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি মসজিদ চত্বরের প্রশাসনিক ও পরিকল্পনা সংক্রান্ত ক্ষমতা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাত থেকে সরিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে। ফিলিস্তিন ও আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ এই পদক্ষেপকে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে।
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইজরায়েলের সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন হেবরন পৌরসভার কাছ থেকে মসজিদ কমপ্লেক্সের পরিকল্পনা ও নির্মাণ সংক্রান্ত ক্ষমতা প্রত্যাহার করে তা তাদের নিজস্ব সুপ্রিম প্ল্যানিং কাউন্সিলের হাতে তুলে দেয়। ক্ষমতা হস্তান্তরের পরপরই মসজিদের অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণের ওপর ছাদ নির্মাণের একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছিল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও ইসলামিক ওয়াকফ, কারণ তাঁদের মতে এতে স্থাপনাটির ঐতিহাসিক চরিত্র ও ধর্মীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে।
এর আগেও ২০২৫ সালে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মসজিদের জল ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন পরিষেবার তদারকি ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনি আওকাফ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে সরিয়ে একটি বসতি-সংলগ্ন ধর্মীয় পরিষদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের মতে, এই পরিষদ আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত নয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সাল থেকে ইব্রাহিমি মসজিদ শারীরিক ও আইনি ভাবে বিভক্ত। বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা ইহুদি উপাসনার জন্য এবং ৪০ শতাংশ মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত। নতুন করে নেওয়া ২০২৬ সালের এই পদক্ষেপগুলোকে ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা পুরো স্থাপনাটির ওপর ইজরায়েলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তথাকথিত “ইহুদিকরণ”-এর দিকে এগোনো হিসেবে দেখছেন।
এই ঘটনায় ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, হামাস এবং জর্ডান সরকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, এটি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং দীর্ঘদিনের স্থিতাবস্থা ভাঙার শামিল। পাশাপাশি ইউনেস্কো ও রাষ্ট্রপুঞ্জের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৭ সাল থেকেই ইব্রাহিমি মসজিদ ইউনেস্কোর ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকাভুক্ত।
সমগ্র পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে ধর্মীয় স্থান ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও গভীর করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


