মহারাষ্ট্রে আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। ৯ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার সোলাপুরে এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে AIMIM প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেন। জনসভায় তিনি ভারতের সংবিধানের প্রশংসা করে বলেন, এই সংবিধান সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সমান সুযোগ দিয়েছে।
ওয়াইসি তাঁর বক্তব্যে পাকিস্তানের সংবিধানের সঙ্গে ভারতের সংবিধানের তুলনা টানেন। তাঁর দাবি, পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির মতো শীর্ষ পদে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় ছাড়া অন্য কেউ বসতে পারে না। অন্যদিকে, ভারতের সংবিধান সব নাগরিককে সমান অধিকার দেয়। তিনি ড. বি আর আম্বেদকরের তৈরি সংবিধানের কথা তুলে ধরে বলেন, এই সংবিধানই দেশের প্রকৃত শক্তি।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়াইসি বলেন, “আমার স্বপ্ন, একদিন হিজাব পরা কোনও মেয়ে এই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, হয়তো তিনি নিজে সেই দিন দেখবেন না, কিন্তু ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থায় এই ভবিষ্যৎ অনিবার্য। তার মতে, ধর্ম বা পোশাক কখনও দেশের সর্বোচ্চ পদে পৌঁছনোর পথে বাধা হতে পারে না।
ওয়াইসির এই মন্তব্যের পরেই বিজেপির তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। বিজেপি সাংসদ অনিল বন্ডে এই বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আক্রমণ করেন। এছাড়াও তিনি দেশে জনসংখ্যার ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং হিন্দু সমাজকে আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বিজেপির আরও কয়েকজন নেতা ওয়াইসির বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের স্বপ্ন অন্য কোথাও দেখানো উচিত। উল্লেখ্য, ১৫ জানুয়ারি পুরসভা ভোটকে সামনে রেখে মহারাষ্ট্রে জোরকদমে প্রচার চলছে। এই আবহে ওয়াইসি ও বিজেপি নেতাদের মধ্যে এই বাকযুদ্ধ আবারও সংবিধান, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সমান অধিকারের প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে।


