অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে নতুন করে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাভাষী মুসলিমদের সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যকে অনেকেই বিদ্বেষমূলক বলে অভিযোগ তুলেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন জানানো হলেও শীর্ষ আদালত সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে শুনানি হওয়াই যথাযথ হবে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী। তাঁদের মতে, এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্টের এভাবে সরে দাঁড়ানো ঠিক হয়নি। আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনের সময় আদালতে মামলা এলে তাকে রাজনৈতিক বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়া কি উচিত? তাঁর দাবি, ঘৃণাত্মক ভাষণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তা হলে কেন শীর্ষ আদালত নিজে থেকে পদক্ষেপ নিল না?
কংগ্রেস নেত্রী শাম্মা মহম্মদও সমালোচনা করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদালতের আরও দায়িত্বশীল হওয়া দরকার ছিল। তাঁর বক্তব্য, একজন মুখ্যমন্ত্রীর আচরণ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সেখানে দ্রুত বিচার হওয়া প্রয়োজন। এই সিদ্ধান্তে ভুল বার্তা যেতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।অন্যদিকে আইনজীবী আশিস গোয়েল মন্তব্য করেছেন, মামলাটি হাইকোর্টে পাঠানো বিচারব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। তাঁর কথায়, সংবিধানের কথা উল্লেখ করে দায় এড়িয়ে যাওয়া উচিত হয়নি। বিশেষ করে ভোটের আগে এমন সিদ্ধান্ত নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। এই ঘটনার পর দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদালতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংবেদনশীল বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন ছিল।


