
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গৃহশিক্ষকসহ পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ওই শিক্ষক চার বছরের এক শিশুকে ট্রলি ব্যাগে ভরে অপহরণের চেষ্টা চালান। শুক্রবার সকালে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের শিমূলকুন্ডু গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সঞ্জয় পতি নামের ওই গৃহশিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে শিশুটিকে পড়াতেন। অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার দোল পূর্ণিমার দিন শিশুটির বাবা-মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে তিনি শিশুটির মুখে কাপড় ঢুকিয়ে চিৎকার বন্ধ করে ট্রলি ব্যাগে ভরেন। এ সময় বাড়ির বাইরে ৯ বছরের এক মেয়ে তাকে দেখে ফেললে, সঞ্জয় মেয়েটির হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে তাকে মুক্ত করে এবং পুলিশকে খবর দেয়। ঘোলপুকুরিয়া এলাকায় ফেলে যাওয়া ট্রলি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, সঞ্জয় দাবি করেছেন যে শিশুটির বাবা তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন, যা ফেরত দেওয়া হচ্ছিল না। টাকা আদায়ের জন্য এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি শিশুটিকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন।
গত কয়েক সপ্তাহে কলকাতায় ট্রলি ব্যবহার করে একের পর এক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। কুমোরটুলিতে নীল ট্রলিতে এক মহিলার গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, গিরিশ পার্কে ব্যবসায়ী হত্যার পর লাশ ট্রলি ব্যাগে ফেলার চেষ্টা—এসব ঘটনায় ইতিমধ্যে অভিযুক্তরা আটক হয়েছেন। নন্দীগ্রামের এই ঘটনায় ট্রলির ব্যবহার আবারও প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।
২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিতে ১৪ কৃষকের মৃত্যু রাজ্য রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। জমি অধিকার আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া সেই রক্তঝরা অধ্যায় বামফ্রন্ট সরকারের পতনের সূচনা করেছিল। এবার ট্রলি কাণ্ডের মাধ্যমে নন্দীগ্রাম ফের শিরোনামে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারির বিধানসভা এলাকায় এই ঘটনায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে বলে অনুমান।
পুলিশ সঞ্জয় পতির পাশাপাশি চার সহযোগীকে আটক করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা শিশুটির পরিবারকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবেই এই পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন। নন্দীগ্রাম থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার গভীর তদন্ত চলছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় শিশু সুরক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।