হুগলির দাদপুরে শুরু হতে চলেছে বিশ্ব ইজতেমা। এই ধর্মীয় সমাবেশকে ঘিরে এলাকায় এখন ব্যস্ততার ছবি। মাঠ সাজানো থেকে শুরু করে রাস্তা পরিষ্কার, পানীয় জল, শৌচাগার—সব কিছুর প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে। আয়োজকদের দাবি, এই ইজতেমার মূল লক্ষ্য শুধু ধর্মীয় আলোচনা নয়, বরং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।
ইজতেমায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসবেন হাজার হাজার মানুষ। পাশাপাশি বিদেশ থেকেও অতিথিদের আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের থাকার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও চিকিৎসার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে গোটা এলাকায় কড়া নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, প্রতি বছর এই ইজতেমাকে ঘিরে এলাকায় এক আলাদা পরিবেশ তৈরি হয়। ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানুষ মানুষকে সাহায্য করেন। ইজতেমার সময় বহু হিন্দু পরিবারও স্বেচ্ছাসেবার কাজে এগিয়ে আসেন—কেউ জল বিলোন, কেউ রাস্তা দেখিয়ে দেন, কেউ বা অতিথিদের খাবারের ব্যবস্থা করতে সাহায্য করেন।
আয়োজকদের বক্তব্য, বর্তমান সময়ে যখন সমাজে বিভেদ বাড়ছে, তখন এই ধরনের অনুষ্ঠান একসঙ্গে থাকার বার্তা দেয়। তাঁদের আশা, দাদপুরের এই বিশ্ব ইজতেমা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত হিসেবেই পরিচিত হবে।
ইজতেমা ঘিরে ইতিমধ্যেই দাদপুর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ। প্রশাসনের আশা, শান্তিপূর্ণভাবেই পুরো অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে এবং দাদপুর আবারও সম্প্রীতির নজির গড়বে।


