ভারী বর্ষণে ভিজছে হুগলির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাসরুম। ছাদে ফুটো থাকায় রক্ষা নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বাধ্য হয়েই ছোট্ট শিশুরা খুলেছে ছাতা। ক্লাসে বসে বই খুলে পড়ার বদলে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে তাদের হাতে ধরে রাখতে হচ্ছে ছাতা। হুগলি জেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের করুণ চিত্র সামনে এলো।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটির চারটি ক্লাসরুমের মধ্যে অর্ধেকই গত দুই বছরে অবহেলায় ভেঙে পড়েছে। মাত্র তিনটি রুম টিকে আছে, তার অবস্থাও জরাজীর্ণ। এই সপ্তাহের প্রবল বৃষ্টিতে ছাদ ফুটো হয়ে জল পড়তে শুরু করায় শিশুদের ভরসা শুধু নিজেদের সাথে নিয়ে আসা ছাতাগুলো। ছবিতে দেখা গেছে, এক ক্লাসরুমেই প্রায় সত্তরজন ছাত্রছাত্রী, যাদের বয়স পাঁচ থেকে দশের মধ্যে, তারা গুটিয়ে বসেছে ছাতার নিচে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন দৃশ্য সত্যিই খুব লজ্জাজনক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত গুপ্তের কথায়, “স্কুল বিল্ডিংয়ের এমন ভগ্নদশায় পরিস্থিতি ছাত্রছাত্রীদের জীবনের জন্য গুরুতর ঝুঁকির।” তিনি বারবার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন জরুরি ভিত্তিতে ছাদ মেরামত ও ভেঙে পড়া ক্লাসরুম সংস্কারের দাবি নিয়ে। স্কুলের পক্ষ থেকে পান্ডুয়া ব্লকের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) এবং জেলা স্কুল পরিদর্শক (প্রাথমিক)-এর কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে একাধিক অভিযোগ জানানো হয়েছে। সংসদ সদস্য রচনা ব্যানার্জিকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।

বিডিও সবিতা বিশ্বাসের বক্তব্য, স্কুলের আবেদন রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং আর্থিক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। তবে জেলা স্কুল পরিদর্শক দীপঙ্কর রায়ের কোনোও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রধান শিক্ষকের আশঙ্কা, শুধু বৃষ্টির জল নয়, ভগ্নদশায় থাকা স্কুল ভবনগুলোর অবস্থা এমনই ভয়াবহ যে, কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। হুগলির সেই স্কুলের শিশুদের ছাতা মাথায় ক্লাস করার করুণ দৃশ্য প্রশ্ন তুলছে মৌলিক শিক্ষা সুবিধার নিশ্চয়তা নিয়ে।


