হুগলি জেলার পুরশুড়া ব্লকের কেলেপাড়া গ্রামে ৭১ বছরের শেখ শাহ আলমের মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, গত ১৫ জুন বাড়ির সামনে তাঁকে মারধর করা হয় এবং সেই হামলার জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনায় ইতিমধ্যেই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতরা বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃতের পরিবারের দাবি, এই ঘটনা হঠাৎ করে ঘটেনি। তাঁদের অভিযোগ, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় একাংশের দুষ্কৃতীদের দাপট বেড়ে যায়। তৃণমূল সমর্থক বলে পরিচিত বহু মুসলিম পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া এবং টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন গ্রামের বহু মানুষ।
মৃত শেখ শাহ আলমের পরিবার জানিয়েছে, ১৫ জুন দুপুরে একদল লোক এলাকায় আসে। তাদের লক্ষ্য ছিল স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বাড়ি। ওই নেতা অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ, এরপর ওই দলটি বাড়িতে তল্লাশি চালায়। কিছু না পেয়ে তারা শেখ শাহ আলমকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
মৃতের বড় ছেলে শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, তাঁর বাবাকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে আনা হয়। তারপর বাঁশ, কাঠ, ইট-পাথর দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এমনকি তাঁকে একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। পরে গুরুতর জখম অবস্থায় আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শাহ আলমের পরিবার জানিয়েছে, তিনি একটি বিরিয়ানির দোকানে কাজ করে সংসার চালাতেন। কয়েক মাস আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর থেকে বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকতেন। সেই অবস্থায় তাঁর উপর হামলার ঘটনায় পরিবার ভেঙে পড়েছে।
এলাকার বহু বাসিন্দাও দাবি করেছেন, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে একাধিক পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, হামলার ভয়ে টাকা দিতেও বাধ্য হয়েছেন। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। পুরশুড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, আইন নিজের পথে চলবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

