নির্বাচনী লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। বিতর্কিত ভিডিয়ো ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই দল ছাড়লেন বাবরি মসজিদের প্রস্তাবিত ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ মইনুল হক রানা। শনিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের সভায় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন।
সভা মঞ্চ থেকেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, “নিজেদের সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গেই গদ্দারি করেছে হুমায়ুন। মানুষের ভাবাবেগ নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে।”
পেশায় ব্যবসায়ী মইনুল হক রানা হুমায়ুন কবীর প্রস্তাবিত নির্মীয়মাণ বাবরি মসজিদ ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। শক্তিপুরের সভায় উপস্থিত থাকার পর মঞ্চে উঠে তিনি তৃণমূলের পতাকা গ্রহণ করেন। এ প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, হুমায়ুনের ভাইরাল হওয়া ১৯ মিনিটের ভিডিয়ো সত্য না মিথ্যা তা তদন্তেই প্রমাণ হবে, তবে তাঁর দলের নেতারাই একের পর এক পদ ছাড়ছেন। তাঁর কথায়, “নিজেদের লোককেই বোঝাতে পারছেন না, অথচ সংবাদমাধ্যমকে বলছেন ভিডিয়োটি এআই তৈরি।”
অভিষেক আরও দাবি করেন, তৃণমূলে থাকাকালীন হুমায়ুন কবীর নিজেই জানিয়েছিলেন তিনি বাবরি মসজিদ নির্মাণ করবেন না। তৃণমূল নেতা বলেন, “ধর্ম নিয়ে রাজনীতি তৃণমূল করে না। মসজিদ করতে হলে রাজনীতি ছেড়ে করতে বলেছিলাম।”
তবে সদ্য দলবদল করা মইনুল হক রানার দাবি, বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে হওয়া দুর্নীতির প্রতিবাদেই তিনি দল ছেড়েছেন। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজেই অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছেন।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় মানুষের ঢলই প্রমাণ করছে জেলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই রয়েছে। মইনুলের যোগদানে দল আরও শক্তিশালী হল।” তাঁর দাবি, বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির চেষ্টা হয়েছিল, তার ইতি ঘটল।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার হুমায়ুন কবীরের ১৯ মিনিটের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির অন্দরে ভাঙনের ছবি সামনে আসছে। একাধিক নেতা পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এর আগে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দলের সঙ্গে জোট করে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের ঘোষণা করলেও পরে একক ভাবে নির্বাচনে নামার সিদ্ধান্ত জানায় দলটি।
শনিবার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, তিনি শীঘ্রই ৫১ মিনিটের একটি সম্পূর্ণ ভিডিয়ো প্রকাশ করবেন। পাশাপাশি মিম ও তৃণমূলের মধ্যে ‘ডিল’-এর অভিযোগ তুলে হাই কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।


