হায়দরাবাদে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শহরের দরবার-ই-হুসেনি থেকে দারুল শিফা পর্যন্ত এক বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলে অংশ নেন এআইএমআইএমের একাধিক জনপ্রতিনিধি, তাদের মধ্যে ছিলেন বিধায়ক জাফর হোসেন মেরাজ, মীর জুলফিকার আলি এবং এমএলসি রিয়াজ উল হাসান এফেন্দি। তাদের সঙ্গে পা মেলান বহু সাধারণ মানুষ।
মিছিলকারীরা সাম্প্রতিক ইসরাইল ও আমেরিকার বিমান হামলার তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। বিক্ষোভস্থলে আয়াতুল্লাহ খামেনির ছবি হাতে নিয়ে নেতারা ও কর্মীরা স্লোগান তোলেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপের দাবিও জানানো হয়।
এর আগেই দলের সভাপতি ও হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ইরানের উপর হওয়া হামলার সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেন, কোনো স্বাধীন দেশের উপর এভাবে আঘাত হানা গ্রহণযোগ্য নয়। তার বক্তব্যে ইরানের জনগণের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়।
মিছিলে বক্তারা অভিযোগ করেন, হামলায় নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মতে, শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে অন্য রাষ্ট্রের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। ইরান একটি স্বাধীন দেশ—এই কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, বহিরাগত চাপ ও ষড়যন্ত্রের মুখেও দেশটি বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
এসময় রাষ্ট্রসংঘের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বিধায়ক জাফর হোসেন মেরাজ বলেন, যদি আন্তর্জাতিক সংস্থা নিরপেক্ষ অবস্থান না নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। তিনি রাষ্ট্রসংঘ ও ওআইসির কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের আবেদন জানান।
সামগ্রিকভাবে, এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বশান্তি রক্ষায় ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, যুদ্ধ ও হামলা কোনো সমস্যার সমাধান নয়; বরং আলোচনার মাধ্যমেই শান্তির পথ খুঁজে বের করা উচিত।


