জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাব এবার পড়ল দেশের অন্যতম বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। গ্যাস সিলিন্ডারের ঘাটতির জেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছে আইআইটি খড়্গপুর কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই কয়েকটি ছাত্রাবাসে কাঠের উনুনে রান্না শুরু করা হয়েছে।
আইআইটি খড়্গপুর ক্যাম্পাসে প্রায় ১৫ হাজার পড়ুয়া আবাসিক হিসেবে থাকেন। প্রতিদিন তিনবেলা খাবারের জন্য বড়সড় রান্নার ব্যবস্থা করতে হয়। জানা গিয়েছে, এই বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর জন্য দিনে গড়ে প্রায় ১০০-র বেশি গ্যাস সিলিন্ডার লাগে। কিন্তু সাম্প্রতিক জ্বালানি সঙ্কটের কারণে সিলিন্ডার সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যে গ্যাস মজুত রয়েছে তা দিয়ে খুব বেশি দিন চলবে না। তাই আগে থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। কিছু ছাত্রাবাসে কাঠের উনুনে রান্না শুরু করা হয়েছে, যাতে পড়ুয়াদের খাবারে সমস্যা না হয়।
একই সঙ্গে খাবারের তালিকাতেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আপাতত ভাজাভুজির মতো বেশি গ্যাস লাগে এমন পদ কমানো হয়েছে। রান্নার কাজে যুক্ত সংস্থাগুলিকে গ্যাস ব্যবহারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইআইটি খড়্গপুরের অধিকর্তা জানিয়েছেন, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সমস্যা বাড়লে বিকল্প ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয়ভাবে রান্না করে বিভিন্ন ছাত্রাবাসে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ যাতে নিয়মিত থাকে, সে জন্য জেলাশাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে আইআইটি কর্তৃপক্ষ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতে রান্নার গ্যাসের সঙ্কট না হয়, সে জন্য সরবরাহকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
যদিও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে অধিকাংশেরই আশা, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং আগের মতোই চলবে ছাত্রাবাসের রান্নাঘর।

