দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’ ঘিরে সম্প্রতি বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে একটি রোবট কুকুরকে কেন্দ্র করে প্রশ্নের ঝড় ওঠে। উত্তর প্রদেশের গালগোটিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে চতুষ্পদী একটি যন্ত্র কুকুর প্রদর্শন করে। তারা জানায়, প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্পের অংশ হিসেবে ‘অরিয়ন’ নামের এই রোবট বানানো হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এটি তাদের বিশেষ গবেষণা কেন্দ্রে তৈরি এবং সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে রোবটটি দৌড়ানো, সিঁড়ি ওঠা এবং বিভিন্ন কৌশল দেখিয়ে উপস্থিত দর্শকদের নজর কাড়ে। কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীনই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা। অনেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও নেটিজেন রোবটটির নকশা ও গঠন বিশ্লেষণ করে দাবি করেন, এটি আসলে চীনের একটি সংস্থার বাজারে বিক্রি হওয়া প্রস্তুত মডেল।
অনলাইনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, একই রকম দেখতে একটি রোবট আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় ২,৮০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়, যা ভারতীয় টাকায় কয়েক লক্ষের বেশি নয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫০ কোটি টাকার দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একইভাবে, তাদের প্রদর্শিত একটি ‘সকার ড্রোন’ নিয়েও অভিযোগ ওঠে, যে সেটি বিদেশি বাণিজ্যিক পণ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। বিতর্ক বাড়তে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রোবটটি গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য কেনা হয়েছিল। তারা আরও বলে, ‘উন্নয়ন’ শব্দ ব্যবহারে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। পরে বিষয়টির দায় এক প্রতিনিধির ওপর চাপানো হয়। কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত সামিট প্রাঙ্গণ থেকে তাদের স্টল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই রোবট নিয়ে আগে প্রচার করেছিলেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সরকারি সংবাদমাধ্যমেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি তুলে ধরা হয়েছিল। বিতর্ক শুরু হওয়ার পর সেই ভিডিও সরিয়ে নেওয়া হয়।


